16.1 C
New York

পরিযায়ী ভোট কোথায় পড়ল? অঙ্ক কি খুব কঠিন?

Must Read

বাম আমলে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিককে নিজ উদ্যোগে ঘরে ফেরাত সিপিএম। কারণ, পরিযায়ী শ্রমিক তাদের ভোট ব্যাঙ্ক ছিল। কিন্তু বাম জমানা অতীত। জল বহুদূর গড়িয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিক এখন রাজনীতির ভাষায় ‘ন্যাশনাল ইস্যু’। আর এই পরিযায়ীদের ভোট বাংলার নির্বাচনে কোন দলে পড়েছে সেই অঙ্কই এখন সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়।

ডান-বাম-রাম অনেক নেতা-নেত্রীর দাবি, পরিযায়ীদের ভোট তাঁদের পক্ষেই পড়েছে। কিন্তু বাস্তবে আদৌ কি প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব? ভোটার লিস্টে তো সবার নামের পাশে পরিযায়ী শ্রমিক বলে লেখা থাকে না। তাই কাছাকাছি একটা সংখ্যা অনুমান করা গেলেও সঠিক সংখ্যা বের করা বোধহয় সম্ভব নয়। তাই এই তর্ক চলতেই থাকবে। কিন্তু তাঁদের ভোট কোথায় পড়েছে সেটা নিয়ে কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে।

বাংলা ভাষা বললেই বাংলাদেশী তকমা। পুশ ব্যাকের ঘটনা কম ঘটেনি। কেউ মারা গিয়েছেন দুর্ঘটনায়। আবার কারও মৃত্যু অস্বাভাবিক। আবার কাউকে খুন করা হয়েছে। কেউ আবার এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আবার বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে অত্যাচারিত হয়ে ফিরে এসেছেন। তাদের এই কঠিন জীবনে তারা ইভিএমে কাকে বেছে নেন তারই অঙ্ক কষছে তৃণমূল, বিজেপি থেকে কংগ্রেসও। কিন্তু এই সমস্ত ঘটনা একটাও বাংলার নয়। সবগুলোই কিন্তু দেশের মধ্যে বিজেপি শাসিত রাজ্যের ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিবাদ করেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘরের কাপড় পরে দিল্লি ছুটে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন: বিগ ব্রেকিং, ১৫ বুথে নতুন করে ভোট, কী জানাল কমিশন?

এখানেই শেষ নয়, দোসর হিসেবে SIR, নাম কাটা যাবে কি না সেই ভয়ে প্রায় অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফিরেছেন। ভোট দিয়েছেন। সেই ভোট তাহলে কোথায় পড়তে পারে তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু জনতা জনার্দন, সংবাদমাধ্যম শুধু মানুষের সঙ্গে কথা বলে অমুমান করতে পারে মাত্র, অন্তত ভোটের ক্ষেত্রে কখনই তা পুরোপুরি মেলে না। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, ২০২১ আর ২০২৪ সালে এক্সিট পোলে কী দেখানো হয়েছিল আর কী হল। ২০২৬ এ কী না দেখানো হচ্ছে। আদৌ কি সব মিলবে? সেটা অবশ্য জানা যাবে ৪ মে।

তবে আর একটা বিষয় না লিখলেই নয়, সেই কোভিডের সময় লকডাউন থেকে ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদেরকে ঘরে ফেরাতে রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, তৃণমূল নেতৃত্ব যেভাবে কাজ করেছে তা তারিফ যোগ্য।

আবার একেবারে বুথ ভিত্তিক কোথায় কত পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে তার তালিকা তৈরি করে নিজস্ব নেটওয়ার্কে ওই শ্রমিকদেরকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছে বিজেপি। সব ক্ষেত্রেই ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা যে নিজের খরচে বাড়ি ফিরেছেন তা নয়। ভোটের কথা মাথায় রেখেই বিজেপি তাদেরকে সুশৃঙ্খল ভাবে ঘরে নিয়ে এসেছে।

তবে পরিযায়ীদের সঙ্গে কথা বেলে একটা বিষয় পরিষ্কার, এসআইআর আতঙ্ক। পরিযায়ী শ্রমিকরা ও তাঁদের পরিবাররা এসআইআরের জন্য এবার যে সমস্যায় পড়েছেন তার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, তাই এবারের ভোট। সেই কারণেই একেবারে দলে দলে এবার ভোট দেন তাঁরা। আধার, ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও ভিন রাজ্যে গিয়ে যেভাবে বাংলাদেশি বলে তাদের উপর অত্যাচার নেমে এসেছিল। সেই আতঙ্কে এবার ভোট দান তাঁদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু তাঁরা ভোট কোথায় দিয়েছেন? সেই উত্তর বোধহয় ৪ মে-র আগে পাওয়া সম্ভব নয়।

Latest News

আইপ্যাক দফতরে হানা দেওয়া অফিসারদের পুরষ্কৃত করল ইডি

ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইপ্যাক (I-PAC) কর্ণধার প্রতীয় জৈনের বাড়ি এবং অফিসে হানা দিয়েছিলেন যে অফিসার, তাঁকেই পুরষ্কৃত...

More Articles Like This