ওয়েব ডেস্ক : ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) দায়ের করা মামলার শুনানি বুধবারও চলল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চে এদিন শুনানি হয়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
শুনানির শুরুতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন,, বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল থেকে চিঠি পাওয়াই কি যথেষ্ট, না স্পিকারকে আরও বিষয় খতিয়ে দেখতে হয়। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের দশম তফসিল এবং শিবসেনা মামলার রায়ের আলোকে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। তিনি আদালতে জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি দেখতে হয়। এক্ষেত্রে কমিশনের হাতে ক্ষমতা। কিন্তু সংখ্যাটাও বিষয়। কমিশন সিম্বল কার হাতে যাবে তা সংখ্যা সহ বাকি বিষয় দেখা হয়।
এরপর বিচারপতি শম্পা সরকার মামলার বর্তমান অবস্থান জানতে চান। জবাবে জয়দীপ কর বলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee)২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্পিকারের কাছে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন জমা পড়েনি। ৯ জুনের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দলের চেয়ারপার্সন ও সেক্রেটারির স্বাক্ষর ছিল না। পরে ১৫ জুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২৭ জুন অভিযোগ দায়ের করা হয়।
আরও খবর : ‘অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছি’, ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত
এরপর বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তা জানতে চান, অভিযোগ কবে দায়ের করা হয়েছিল। ২৭ জুন অভিযোগ করা হয় বলে জানান জয়দীপ কর। বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, ১৫ জুন থেকে ২৭ জুনের মধ্যে কোনও সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়নি। তিনি জানতে চান, দলের একাংশ আলাদা হয়ে অভিযোগ জানিয়েছে, স্পিকার সেই বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন কি না। কতজন সদস্য দল ছেড়েছেন, সেটাও আদালতে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে জয়দীপ কর বলেন, এটি শুধু সংখ্যার লড়াই নয়। পরে বিধানসভার কোরাম সম্পর্কেও প্রশ্ন ওঠে। উত্তরে সংবিধানের ১৮৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন তিনি।
শুনানির শেষপর্বে বিচারপতি শম্পা সরকার জানতে চান, অধ্যক্ষ কি এমন একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন? যাঁর পক্ষে পরাজিত দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রয়েছেন। এর উত্তরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল এবং তার বিস্তারিত জবাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দু’বার সময়ও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, কোন পক্ষ প্রকৃত দল, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনই নেবে। সব পক্ষের সওয়াল শেষ না হওয়ায় মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি রাখে ডিভিশন বেঞ্চ।
