ওয়েব ডেস্ক : মানুষের কিডনি পাওয়া যায়নি, তাই ভরসা করতে হয়েছিল শূকরের কিডনিতে (Kidney)। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! জিনগত ভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পর টানা ২৭১ দিন ডায়ালিসিস ছাড়াই ছিলেন আমেরিকার (America) টিম অ্যান্ড্রুজ। পরে সেই কিডনি কাজ করা বন্ধ করলে তা সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মানবদেহ থেকে দান করা একটি কিডনি পান তিনি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৬৬ বছর বয়সে অ্যান্ড্রুজের শরীরে জিন-পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিস্থাপনের পর কিডনিটি সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কিডনি বিকল রোগীদের যে নিয়মিত ডায়ালিসিস করতে হয়, তা থেকে মুক্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিই এখনও পর্যন্ত জীবিত মানুষের ক্ষেত্রে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পর সবচেয়ে দীর্ঘ ডায়ালিসিস-মুক্ত সময় বলে জানানো হয়েছে।
আরও খবর : চীনের গাড়ির দাপট, আমেরিকার শুল্ক! ১ লক্ষ চাকরি ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত Volkswagen -এর
তবে কয়েক মাস পর কিডনিটির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, প্রতিস্থাপিত অঙ্গে ক্ষুদ্র রক্তনালিতে ক্ষতি ও প্রদাহ তৈরি হয়েছে। সংক্রমণের কারণে প্রায় ছয় মাস পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমিয়ে রাখার ওষুধের মাত্রাও কমাতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনিটি সরিয়ে নিতে হয় এবং অ্যান্ড্রুজকে ফের ডায়ালিসিসে যেতে হয়।
এরপর আসে আরও বড় সাফল্য। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অ্যান্ড্রুজ একটি মৃতদেহ থেকে দান করা মানব কিডনি পান। নতুন কিডনিটিও দ্রুত কাজ শুরু করে। চিকিৎসকেরা জানান, আগের শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের কারণে মানব কিডনিটির বিরুদ্ধে তাঁর শরীরে বাড়তি প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শূকর থেকে মানুষের শরীরে কোনও জীবাণু সংক্রমণের প্রমাণও মেলেনি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, জিন-পরিবর্তিত শূকরের কিডনি শুধু সাময়িক ভাবে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখেনি, মানব কিডনি পাওয়া পর্যন্ত ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করেছে। তবে এই প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। অঙ্গটি কতদিন নিরাপদে কাজ করবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।
