11.5 C
New York

ইউনুসের আমলে সাংবাদিকদের উপর মাত্রাছাড়া নির্যাতন, গর্জে উঠল ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’ 

Must Read

নিজস্ব প্রতিবেদক-  বাংলাদেশে (Bangladesh) গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের পতন হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। মসনদে বসে ইউনুস সরকারের (Yunus Government) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু বসতে না বসতেই ইউনুস সরকারে বিরুদ্ধে ক্ষোভের বারুদে গর্জে ওঠে বাংলাদেশ। কারণ হিসেবে উঠে আসে সরকারের অনিয়ন্ত্রিত সরকার পরিচালনা। পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত। প্রতিবাদের মাশুল দিতে হয় সাংবাদিকদের। কারাবন্দি হতে হয় তাঁদের। ফলে জন্ম নেয় বিক্ষোভ, খুনোখুনি, থেকে আতঙ্ক। বর্তমানে ইউনুস সরকারের পতনে বাংলাদেশের মসনদে এখন তারেক রহমান (Tariq Rahman) । 

এবার কারবান্দী সাংবাদিকদের মুক্তি ও মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে  পথে নামল ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’ (Journalists’ Front Against Oppression) । মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানালেরন ফ্রন্টের সদস্যরা। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,  ইউনুস সরকার সাংবাদিকদের  উপর চরম ভাবে নির্যাতন (Journalist Harassment)  চালিয়েছে। দেশের ইতিহাসের এত সংখ্যক সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা ও আটকের খারাপ নজির স্থাপন করেছে। এই সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।

সংগঠনের আহ্বায়ক আখতার হোসেন বলেন,  ইউনুসের আমলে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমনকী কারাগারের আটকে রাখা হয়েছে।  কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি  ও তাদের উপর নির্যাতন বন্ধ করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। তারা যদি সেই দায়িত্ব না নেয় তাহলে ধরে নিতে হবে আপনারা সাংবাদিকদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আখতার হোসেন  আরও বলেন, রাজনৈতিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আপনারা সাংবাদিকদের মুক্ত করে দিন। তাহলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

মানববন্ধনে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন,  ২০২৪ সালের আগস্টে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ইউনুস ক্ষমতা দখল করেই বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মুক্তমনাদের ওপর আঘাত হানতে শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন,  মাজার, পীর ফকির আউলিয়ার সমাধি থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের উপর আক্রমণ রাষ্ট্রীয় নীতির  অংশে পরিণত করে ইউনুসরা।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাংবাদিকদের ওপর চাপ তৈরি করে হয়রানি ও সহিংসতার অংশ হিসেবে শত শত সাংবাদিককে আইনি হয়রানি,  শারীরিক হামলা,  মামলা, পোহাতে হয়েছে। বাতিল করে দেওয়া হয় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড। এখানেই থেমে থাকেনি নির্যাতন। হাজারেরও বেশি সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিক হত্যায়ও মদত দিয়েছে তারা।

বিভিন্ন সময় এদেশের সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হলেও ইউনুসের আমলে নির্যাতনের ধরন  ছিল মাত্রাছাড়া। পরিবর্তনের পাশাপাশি মব সহিংসতাকেও উস্কে দিয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র অফিসে আগুন দিয়ে সাংবাদিকদের হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে, এসব ঘটনা ইউনুসের দায়মুক্তি নিয়ে ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন।

ইউনুসের সাংবাদিক নির্যাতনের খন্ডচিত্র তুলে ধরে শেখ জামাল জানান,  শাহরিয়ার কবীর,  মোজাম্মেল বাবু,  শ্যামল দত্ত,  শাকিল আহমেদ,  ফারজানা রুপা,  শেখ জামাল,  মঞ্জুরুল আলম পান্না,  আনিস আলমগীরসহ সারাদেশে ৪৭ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়। বেশ কয়েকজন এখনও কারাগারে। এছাড়া মেহেদী হাসান,  শাকিল হোসেন,  তাহির জামান,  এটিএম তুরাব,  প্রদীপ কুমার ভৌমিক,  সোহেল আখঞ্জিসহ ১৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়।

 

তিনি জানান,  জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলের বর্ষীয়ান সাংবাদিকসহ সারাদেশে ৪৪৯ জন সাংবাদিকের নামে হত্যা মামলা করা হয়েছে। যা এখনও বহাল আছে। এছাড়া জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও টেলিভিশনগুলোর বার্তা প্রধান ও সাংবাদিকসহ সারাদেশে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ১২০০ সংবাদদাতাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় পদ দখল করা হয়েছে। বিটিভি, একাত্তর টিভি,  সময় টিভি,  ডিবিসি,  গান বাংলা,  এটিএন নিউজ,  এটিএন বাংলা,  মাইটিভি,  বিজয় টিভি,  নিউজ ২৪ ও আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময়, দৈনিক মুখপাত্র, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলা নিউজ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নজিরবিহীনভাবে ১৬৮ সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসক্লাবের ৭০০ জন সদস্যের পদ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের দেশত্যাগে বেআইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৪৭ জন সাংবাদিকের ব্যাঙ্ক হিসাব বেআইনিভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

শেখ জামাল বলেন,  ইউনুসের আমলে যে নিপীড়ন চলেছে এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন নির্যাতন নিপীড়ন করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ ‘নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট’  গড়ে তুলেছে। মানববন্ধন থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। দেশের সকল সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে। সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত দিতে হবে। ডিইউজে ও বিএফইউজে অফিস খুলে দিতে হবে। অফিসের টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুট করে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিচার করতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারাদেশের প্রেসক্লাবের  সাংবাদিকদের সদস্যপদ ফেরত দিতে হবে। সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। সাংবাদিকের ব্যাঙ্ক হিসাব বাজেয়াপ্ত করার আদেশ প্রত্যহার করতে হবে। বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বাক আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শেখ জামালের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জে এম রউফ, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) কোষাধ্যক্ষ সোহেলী চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক আসাদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক  জান্নাতুল ফেরদৌস সোহেল সহ নির্বাহী সদস্য সাজেদা হক,  একেএম ওবায়দুর রহমান।

আরও পড়ুন –  পারমাণবিক শক্তিধর হল বাংলাদেশ! শেখ হাসিনার অবদানে বড় সাফল্য পেল দেশ

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক অর্থ সম্পাদক রেজাউল কারীম, ডিইউজের নির্বাহী সদস্য রারজানা সুলতানা,  রহিমা খানম, রমজান আলী, শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম রফিক, শফিউর রহমান, ওয়ারেসুন্নবী খন্দকার, মাজেদুল ইসলাম পাবেল, এস এম কামরুজ্জামান সাগর, শেখ ইমন আহমেদ, নাইমুর রহমান স্বপন, গাজী তুষার আহমেদ, বিউটি রানী, জয়নাল আবেদিন বাপ্পি প্রমুখ।

Latest News

দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিল চীন? শোরগোল আন্তর্জাতিক মহলে

ওয়েব ডেস্ক : দুর্নীতির পাশাপাশি বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্র। সেই অভিযোগে দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিল চীনের (China) প্রেসিডেন্ট শি...

More Articles Like This