কলকাতা: তিলজলায় (Tiljala Illegal Building) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সম্পত্তিতে ভাঙার উপর অন্তরবর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত। তবে ওখানে কোনও কারখানা চালানো যাবে না। পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation ) ও পুলিশ আইনানুযায়ী প্রক্রিয়া চালাবে। মামলার সঙ্গে সংযুক্ত সমস্ত বিবাদীপক্ষরা হলফনামা জমা দেবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুন। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরীর মন্তব্য সমস্ত জায়গায় যেভাবে অবৈধ নির্মাণ চলছে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। বিচারপতির মন্তব্যকে সমর্থন করলেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্য বলেন, ওখানে কোনও কারখানা ছিল না। তিলজলায় ১২ তারিখে আগুন লাগে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ভাঙা হচ্ছে। ৪ সদস্যের সিট গঠন হয়। ১৩ তারিখে বেলা ১১ টায় সিট রিপোর্ট দেয়। সেইদিনই বিকেল ৪ টে থেকে ভাঙর কাজ শুরু হয়। আবেদনকারীর বিল্ডিং এর জি প্লাস ওয়ান এর অনুমোদন ছিল পুরসভা থেকে। তারপরের দুটি তলা ছিল অবৈধ।পুরসভার আইনের ৪০০ ধারা অনুযায়ী ভাঙ্গার আগে নোটিশ দিতে হবে। সেখানে নোটিশ দিয়ে বাড়ির মালিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়াও ২০২৫ সালের সুপ্রিমকোর্ট সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে একটি নির্দিষ্ট জারি করেছিল সম্পত্তি ভাঙার ক্ষেত্রে কি কি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নোটিশ দিতে হবে।এক্ষেত্রে সেই নির্দেশিকা মানা হয়নি।
আমার মালিকানার নথি পর্যন্ত নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরী বলেন, কিসের ব্যবসা? আপনার আবেদন কি? বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্য বলেন, লেদারের।ওখানে আমার বাসস্থান। নিয়ম না মেনেই ভাঙ্গা হচ্ছে। অবিলম্বে সমস্ত প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চাইছি। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি গ্রেফতারকে চ্যালেঞ্জ করছি না। আমি ভাঙ্গার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করছি। জয়দীপ কর, কলকাতা পুরসভা, ১৯৯৭ থেকে ওখানে ট্যানারি চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ থেকে ওই জায়গায় ট্যানারি বন্ধ হয়ে যায়। বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরী বলেন, এগুলো মূল শুনানির বিষয়। আবেদনকারীর দাবি তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ভাঙা যাবে না।আদালত জানিয়েছে, কোনও নির্মাণই আইন না মেনে ভেঙে ফেলা যাবে না। আইন মেনে কাজ করতে হবে। বিচারপতি বসুচৌধুরী জানান, তিলজলার বহুতল ভাঙার উপর আপাতত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ থাকবে। ওই ঠিকানায় কোনও ব্যবসা এখন করা যাবে না। কেউ সেখানে থাকতেও পারবেন না। সেখানকার কোনও বাসিন্দা পুনর্বাসন এখন পাবেন না। এমনকি, ভাঙা অংশ মেরামতও করা যাবে না। আপাতত জায়গাটিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিন শুনানির সময় তিলজলা ও তপসিয়া সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি। আদালত মনে করিয়ে দেয় যে, এই সংক্রান্ত নির্দেশ আগে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়নি।জয়দীপ কর বলেন, আবেদনকারী বলছে ওখানে কারখানা চলে না। কিন্তু ওখানে কারখানা চলছে। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্য বলেন, এখানে ট্যানারি নয়। চামড়ার ব্যাগ তৈরি হত। বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরী বলেন, ভাঙার কাজ কতদূর? জয়দীপ কর জানান, আমরা ভাঙছি না। আমরা চাইছি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তি যাতে ব্যবহার না করা হয়। ধীরাজ দ্বিবেদী, পুলিশ বলেন, ওখানে ২ টো বাড়ি। অবৈধ নির্মাণ।
আরও পড়ুন: চার দশকের আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ পেলাম, মুখ খুললেন কাকলি
বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরী, এখানে একটি সম্পত্তি নিয়ে আবেদন করা হয়েছে যার অনুমোদন আছে। আদালত বহু অবৈধ নির্মাণ ভাঙ্গার নির্দেশ রাজ্য কি সেগুলো সঠিকভাবে পালন করে। প্রতিনিয়ত আদালত অর্ডার দিচ্ছে। ধীরাজ দ্বিবেদী, পুলিশ ও কেএমডিএ, আমি পুলিশের হয়ে। ভাঙ্গার কাজ পুরসভার। তবে ওখানে কারখানা চলছিল কোনও অনুমোদন ছাড়া। আমরা পুরসভার নির্দেশে কাজ করেছি। চোখ ধাঁধানো একাধিক অট্টালিকা ঘিরে ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা মোদাচ্ছের হোসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ভাঙড় কলেজ মোড় পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে তাঁর কয়েকটি তিন ও চারতলা বাড়ি। বাড়িগুলির গায়ে ‘লভ’ চিহ্ন থাকায় এলাকায় সেগুলি ‘লভ বাড়ি’ নামেই পরিচিত।
বিরোধীদের দাবি, শুধু বাড়িই নয়, রাস্তার ধারে কয়েক বিঘা জমিরও মালিক তিনি, যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনীতিতে আসার আগে কাঠালিয়া বাসস্ট্যান্ডের পাশে ভাড়ার দোকানে তেলের ব্যবসা করতেন মোদাচ্ছের হোসেন। ২০০৫ সালে তৃণমূলের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ২০০৮ সালে ভোগালি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হন। এরপর থেকেই তাঁর আর্থিক উন্নতি হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে মোদাচ্ছের হোসেনের দাবি, লোন নিয়েই তিনি এই সম্পত্তি তৈরি করেছেন।
গত মঙ্গলবার তপসিয়ার একটি বহুতলের দোতলায় চামড়ার কারখানায় আগুন লেগে গিয়েছিল। তাতে পুড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। আরও তিন জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিলজলার ওই বহুতল বেআইনি ভাবে নির্মিত। তার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই এবং সেখানে অবৈধ ভাবে কারখানা চলছিল। এদিকে তিলজলা কাণ্ডের পরই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, কলকাতায় বেআইনি কোনও নির্মাণের কথা সরকার জানলেই তাদের জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে, সিইএসসি-কে বলে বিদ্যুৎ সংযোগও কাটিয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের কোথায় কোথায় এই ধরণের অবৈধ কারখানা চলছে, তা চিহ্নিত করতে অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ অডিট বা সমীক্ষা চালাতে হবে।
