ওয়েব ডেস্ক : দুর্গাপুজো মানেই অভিনব থিম, মণ্ডপসজ্জার বৈচিত্র্য আর দর্শনার্থীদের জন্য নতুন চমক। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই এ বছর ৬০ বছরে পদার্পণ করল বেলুড় বয়েস স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো (Durga Puja)। পুজোর এই বিশেষ বছরে অভিনব ভাবনা নিয়ে হাজির শিল্পী চন্দন ব্যানার্জি। এবারের মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া পরিবেশ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের ছবি।
মণ্ডপসজ্জায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কুটির শিল্পকে। পাশাপাশি প্রাচীন শিবমন্দিরের আদলে তৈরি বিভিন্ন উপকরণও থাকছে মণ্ডপে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও হারিয়ে যেতে বসা পরিবেশকে নতুন করে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন শিল্পী। তবে এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ শুধু গ্রাম বাংলার ছবি নয়, এর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে বই পড়ার বার্তাও।
আরও খবর : পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারে বেসরকারি সংস্থাকে পাশে চায় সরকার, জানালেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বই দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের একাংশ। সাহিত্য ও মননের জগতে বাঙালির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই এই বিশেষ ভাবনা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের প্রতি বাড়তে থাকা আসক্তির মধ্যে নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার অভ্যাসে ফিরিয়ে আনাই উদ্যোক্তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান প্রজন্মের বড় অংশ মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। সেই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই এই উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের বার্তা, “মোবাইল ছেড়ে বইয়ের দিকে ফিরুন।”
গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য এবং বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদকে একসঙ্গে তুলে ধরে দর্শনার্থীদের কাছে এক সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে চায় বেলুড় বয়েস স্পোর্টিং ক্লাব। ষাট বছরের পথচলায় এ বার তাদের পুজো শুধু মণ্ডপসজ্জার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরারও একটি উদ্যোগ।
