‘ইন্ডাস্ট্রি রুথলেস, রাহুলের মৃত্যুতে কলম ধরলেন স্বস্তিকা

0
39

কলকাতা: লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন, আর তারপর, সব শেষে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা। এভাবে তাঁর চলে যাওয়া যায়? এই মৃত্যুর দায় কে নেবে? উঠছে প্রশ্ন। তদন্তের দাবি করেন প্রতিটা শিল্পী। কেন চুপ প্রযোজনা সংস্থা, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। রবিবার বিকেলে ঠিক কী ঘটেছিল? সকলের মনে ধোঁয়াশা বর্তমান। অবশেষে নিরপেক্ষ তদন্তের বিবৃতি দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। রাহুলের মৃত্যুতে কলম ধরলেন স্বস্তিকা মুখ্যোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। লেখায় ‘ইন্ডাস্ট্রিকে রুথলেস বললেন স্বস্তিকা। রাহুলের ছবি শেয়ার করে, লম্বা পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন স্বস্তিকা।

ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিকটাই সবার সামনে তুলে ধরলেন সাহসী অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee On Rahul Arunoday Banerjee Death)। রাহুলের প্রয়াণের পর ফেসবুকে বোমা ফাটালেন স্বস্তিকা। সহযোদ্ধাকে হারিয়ে শোকের সাগরে ডুবেছেন স্বস্তিকা। অভিনেত্রী তাঁর, তাঁর কন্যার ও রাহুলের একটি ছবি শেয়ার করে নিয়ে লিখেছেন, ‘মনে না করতে চাইলেও ফেসবুক মনে করিয়েই দেয়। অন্য সময় হলে এক গাল হেসে ছবিটা তোকে পাঠাতাম। কত স্মৃতি। কপাল দেখ শত ইচ্ছে থাকলেও একসঙ্গে আর কাজ করা হল না।

রাহুলের উদ্দেশ্যে তিনি বলছেন, তোর সঙ্গে শেষ কথা কয়েক সপ্তাহ আগে, আমি অরুণাচল যাচ্ছিলাম, ফিরে এসে সহজ কথায় যাব। তুই এর মধ্যে বিবি পায়রা ছবিটা দেখে নিবি, সেই নিয়ে গল্প হবে আরও কত কিছু। তুই এর আগেও কয়েকবার ফোন করেছিলি, অন্য বিষয়ে। গজগজ করতে যখন ফোন করতিস সেগুলোই ছিল আমার সবচেয়ে পছন্দের। আমি প্রত্যেকবার অন্য শহরে ছিলাম, ফিরে এসে সহজ কথায় যাবো, তারপর তোর -আমার কাজ এর ব্যস্ততা সামলে যাওয়ার তারিখ, পেছতেই থাকল। কিন্তু এই বারটা তো পাকাপাকি হয়ে গেছিল ভাই। তুই ও আউটডোর থেকে ফিরবি , আমিও, তারপর জমিয়ে আড্ডা হবে। জীবন নিয়ে, যাপন নিয়ে, কাজ নিয়ে, এমনি – কিছু না নিয়েও।”আজকাল সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ভাই, তুই একটা সোজা শিরদাঁরা নিয়ে মহাপ্রস্থানে গেলি এটাই শিক্ষনীয়, বিষ্ময়কর ও বটে। লোকে একটা আস্ত মেরুদন্ড নিয়ে হাঁটতে চলতে পারছেনা, তুই কিনা সগ্গে চলে গেলি! তোর মৃত্যু অনেক কিছু শিখিয়ে গেল, জীবনের কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহস যোগাল। কাজ পাই, না পাই, সেগুলোতে অনড় থাকব, থাকবই।’

আরও পড়ুন:নিরপেক্ষ তদন্ত হবে’, ঘটনার ৩ দিন বাদে সাফাই প্রযোজনা সংস্থার

‘অরুণোদয় – এই ভাবে অস্ত না গেলেও পারতিস। আহা গো। যার গেল তার গেল। বাবা সর্বক্ষণ বলত, আমাদের প্রফেশন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি রুথলেস। কেউ কারুর নয়, কারুর দায় নেই, কিছু হলে কেউ দায়িত্ব নেবে না, নিজেরটা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। তোর চলে যাওয়ার দায় দেখ কেউ নিল না, তোর ওপরেই দোষ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তুই তো আর নিজের হয়ে লড়তে পারবিনা, এটাই ওদের কাছে তুরুপের তাস। মায়া নেই, দুঃখ নেই, আহা নেই, দায়বদ্ধতা নেই, কাজের নিয়ম নিয়ে কৈফিয়ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, আসলে বোধটাই নেই। আমরা সবাই রিপ্লেসেবল। তোর চলে যাওয়া বাবার বলে যাওয়া কথাগুলোতে শীল মোহর বসাল।মার্চ মাসের অর্থই তাঁর কাছে বদলে গিয়েছে। আগে বাবা, তারপর রাহুল। তাঁর কথায়, “মার্চ মাস-টার তাৎপর্যটাই বদলে গেল। ১১ তারিখ বাবা, ২৯ তারিখ তুই। এভাবে তুই ও আরেকটা তারিখ হয়ে যাবি স্বপ্নেও ভাবিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here