কলকাতা: একঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং কলাকুশলীদের সম্মান। বাংলার অন্যতম ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ‘সিনেমার সমাবর্তন’ ২০২৬ (Cinemar Samabartan) আজীবন অবদানের স্বীকৃতি পিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় (Biplab Chatterjee)। পাশাপাশি ‘ঋত্বিক ঘটক শতবার্ষিকী সম্মান’-এ সম্মানিত হন মাধবি মুখোপাধ্যায় (Madhabi Mukherjee)। এবছরের থিম ছিল ‘বাংলার সিনেমার পর্দায় কালজয়ী নেগেটিভ চরিত্ররা’। সাধারণত নায়ক-নায়িকাদের নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকে, কিন্তু এই বছর আলো পড়ল সেই সব চরিত্রের ওপর, যারা গল্পে দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা ও গভীরতা এনে দিয়েছে।
তারকাদের ভিড়, ক্যামেরার ফ্লাসলাইটের ঝলসানি সঙ্গে গান-গল্প-আড্ডায় মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি বিখ্যাত সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হল বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠান ‘সিনেমার সমাবর্তন ২০২৬’। সত্যজিৎ রায় থেকে অঞ্জন চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে অসংখ্য পরিচালকের বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়। পর্দায় ভিলেনের চরিত্রে তাঁকে দেখে হাড়হিম হত দর্শকের। সেই বিপ্লব আজ অশীতিপর। দোর্দন্ডপ্রতাপ খলনায়কের সহায় হুইল চেয়ার।এবছর সিনেমার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সত্যজিৎ রায় জীবনকৃতি সম্মান’ প্রদান করা হয় বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি ‘ঋত্বিক ঘটক শতবার্ষিকী সম্মান’-এ সম্মানিত প্রদান করা হয় ‘সুবর্ণরেখা’ ছবির ‘সীতা’ মাধবী মুখোপাধ্যায়কেও।
আরও পড়ুন: ‘সিনেমার সমাবর্তন’, জনপ্রিয় ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে সেরা কারা?
মাধবী মুখোপাধ্যায় ও বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধন গড়া এই দুই শিল্পীর একসঙ্গে উপস্থিতি যেন বাংলা চলচ্চিত্রের দীর্ঘ যাত্রাপথের প্রতীক হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁরা দু’জনেই বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সিনেমা দেখার এবং তার সঙ্গে যুক্ত থাকার আহ্বান জানান। মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, “বাংলা সিনেমা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে আমাদের ভাষা, আবেগ, সমাজ ও ইতিহাসের প্রতিফলন।”বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ও একই সুরে বলেন, ‘আজকের দিনে বাংলা সিনেমার দর্শক তৈরি হওয়া খুব জরুরি। নতুন প্রজন্ম যদি হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখে, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।’ তাঁর মতে, দর্শকই হলেন শিল্পের আসল শক্তি।