ওয়েব ডেস্ক: বিজেপি দু’মুখো সাপ, নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়, নির্বাচনের পর আর একটা! বসিরহাটে নির্বাচনী প্রচারে (Mamata Campaigning Election Basirhat) থেকে বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে রাজ্যের উত্তর-দক্ষিণে মেগা প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই ভোটের আগে রাজ্যে বাইরে থেকে লোক ঢোকাছে বিজেপি অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী।শুক্রবার তিনি প্রথম সভা করেন স্বরূপনগরে। সেখান থেকে জনসভা সেরে তিনি বসিরহাটে পৌঁছেন। বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ তৌসিফুর রহমানের সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘‘বিজেপি দু’মুখো সাপ, নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়, আর নির্বাচনের পর আর একটা ছোবল দেয়। যদি ছোবল খেতে না হয়, তৃণমূলকে ভোট দিন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘কাউন্টিংয়ের দিন সকাল থেকে স্লো কাউন্টিং করে রটাবে। বিজেপির সিটগুলো আগে দেখাবে, আপনাদের সিটগুলো পরে দেখাবে। যাতে আপনারা তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান। ওটা দখল করে নেবে। এটা করতে দেবেন না। কাউন্টিংয়ের রেজাল্ট নিয়ে তবে বেরোবেন এজেন্টরা।তার আগে বেরোবেন না। জল্লাদ, ধর্ষণকারীদের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করব। দিল্লির জমিদার, জোতদারদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, তৃণমূলকে একটা ভোট দেবেন, আর বদলা নেবেন।’’
মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, বিজেপির প্ল্যান এনআরসি করবে। ডিলিমিটেশন করে বাংলাকে তিন টুকরো করে দেবে। বাংলা ভাষায় কথা বললে বিহার, ওড়িশায় অত্যাচার করে।বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjees) বলেন, ওরা বলে এক। করে আর এক। মিথ্যা কথার কারখানা। ভাঁওতা দেওয়ার কারখানা। এসআইআরের নাম কাটার কারখানা। দাম বাড়াবার কারখানা। ওরা মানুষের যন্ত্রণা। বাংলাকে করে লাঞ্ছনা, বাংলাকে করে বঞ্চনা। তাই বলি বিজেপিকে ভোট দেবেন না। বিজেপিকে মানুষের যন্ত্রণা বলেছেন তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ বাংলাকে লাঞ্ছনা-বঞ্চনা করে কেন্দ্রের শাসক দল। বিজেপি দু’মুখো সাপ, নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়, আর নির্বাচনের পর আর একটা ছোবল দেয়। যদি ছোবল খেতে না হয়, তৃণমূলকে ভোট দিন।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে শাহি ছত্রছায়ায় দিলীপ ঘোষ! প্রবল চাপে শুভেন্দু? এবার কী হবে?
এত অত্যাচার, এত অনাচার, এত ব্যাভিচার! যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী ঢোকে তা হলে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। এটা অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়, এটা মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা।’’ তাঁর দাবি, বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়। বাংলাকে মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা বলেন তিনি।এত অত্যাচার, এত অনাচার, এত ব্যাভিচার! যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী ঢোকে তা হলে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। এটা অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়, এটা মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা। সেই সঙ্গে মমতা অভিযোগ করেন, অন্য রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে লোক ঢোকানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এ-ও অভিযোগ যে, বৃহস্পতিবার অসমে ভোট দেওয়ানোর জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্রেনে চাপিয়ে ৫০ হাজার জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এদিন এসআইআরের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, খবরের কাগজে দেখলাম। এসআইআর-এ ৯০ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। তার মধ্যে নাকি ৬০ লক্ষই হিন্দু, আর ৩০ লক্ষ মুসলমান! এই বিষয়ে ব্লক স্তরে সমীক্ষার পর তৃণমূলের তরফে যা বলার বলা হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ইভিএম নিয়ে সতর্ক করেন।

