খড়গপুর- রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ফের একবার চড়া সুরে সরব হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরের এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি, স্টেডিয়াম বা অডিটোরিয়াম তৈরি হোক কিংবা আবাস যোজনা, শৌচালয়, পানীয় জল ও বিদ্যুতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা— যারা এই সব লুঠ করেছে, তাদের পেট থেকে সেই টাকা টেনে বের করা হবে। জনগণের গচ্ছিত অর্থ কোনোভাবেই কাউকে হজম করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। এদিন ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তৎপরতা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ।
আরও পড়ুন- আরও ৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির, ৩ আসনে প্রার্থী বদল
তিনি ইডির তলবকে বাংলার লোককথার ‘নিশির ডাক’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। দিলীপ ঘোষের মতে, ছোটবেলায় মানুষ যেমন নিশির ডাককে ভয় পেত, বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কাছে ইডির চিঠি ঠিক তেমনই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন যে, তদন্তকারী সংস্থার চিঠি আসামাত্রই অনেক নেতার রক্তচাপ ও সুগার বেড়ে যাচ্ছে এবং তারা তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে তদন্তের এই ঢেউ যে খুব শীঘ্রই জেলার আনাচে-কানাচে পৌঁছে যাবে, সেই ইঙ্গিতও এদিনের সভা থেকে দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, হেমন্ত সোরেন কিংবা লালু প্রসাদ যাদবের মতো তাবড় নেতারাও আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারেননি। দিল্লির উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে পরিবর্তনের ছোঁয়ায় যমুনা নদীর বিষাক্ত ও কালো জল যেমন আজ স্বচ্ছ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সেখানে নির্ভয়ে ছট পূজা করতে পারছেন, ঠিক তেমনই পরিবর্তন তিনি এ রাজ্যেও আনতে চান।
খড়গপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এলাকার বিষাক্ত রাজনৈতিক হাওয়া বদলে দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার ডাক দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

