দেবাশীষ সেনগুপ্ত
পুরভোটের (Municipal Election) নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতিতে এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আসন্ন পুরভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে চাওয়া ৪০ হাজারেরও বেশি নতুন ইভিএম ইউনিট রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। কমিশন সূত্রে খবর, মোট ২১ হাজার ১৮৪টি ব্যালট ইউনিট (বিইউ) এবং ১৯ হাজার ৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট (সিইউ) ইতিমধ্যেই রাজ্যে পৌঁছেছে। ফলে পুরভোটের প্রস্তুতিতে ইভিএম সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব কার্যত সম্পূর্ণ করার পথে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
পুরভোটের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও প্রস্তুতিতে কোনও রকম ঢিলেমি রাখতে চাইছে না কমিশন (Election Commission)। ভোটগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ইভিএম হাতে রাখা এবং সেগুলির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে প্রতিটি ইভিএমের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা হবে। কোনও যন্ত্রে ত্রুটি ধরা পড়লে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইভিএম (EVM) পরীক্ষার পর শুরু হবে জেলা ভিত্তিক বণ্টনের কাজ। কোন জেলার কতগুলি পুরসভায় ভোট হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কত, সেই চাহিদার ভিত্তিতেই ইভিএম পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণও ধাপে ধাপে শুরু হবে।
আরও খবর : ২০৩৫-এর মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি বিনিয়োগ, বড় ঘোষণা গৌতম আদানির
পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে সাধারণত ভোটার তালিকা, বুথ পরিকাঠামো, ভোটকর্মী এবং ইভিএম-সহ একাধিক প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন করে থাকে নির্বাচন কমিশন। এবারও সেই প্রক্রিয়াই দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক ইভিএম আগাম রাজ্যে চলে আসায় পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি আরও গতি পাবে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ইভিএমের পর্যাপ্ত জোগান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি পুরসভায় একাধিক ওয়ার্ড এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্র থাকায় বিপুল সংখ্যক ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিটের প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদা মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে ইভিএম সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন ইভিএমের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, সংরক্ষণ, জেলা অনুযায়ী বণ্টন এবং ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পালা। ফলে নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও রাজ্যে পুরভোটের প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে দ্রুত গতি পাচ্ছে, ইভিএম পৌঁছনোর ঘটনায় তারই ইঙ্গিত মিলছে।
