কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) ফল প্রকাশের পরেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি পদত্যাগ করছেন না। এবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই বার্তাকেই জোরালো করলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার বিকেলে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও তা মেনে নেবেন, কিন্তু ইতিহাসে সেই দিনটিকে ‘কালো দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত রাখতে চান।
এদিনে বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে দল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, এখন বিভক্ত হওয়ার সময় নয়, বরং একত্রিত হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সময়। এদিন মমতা স্পষ্ট করে বলেন, দলের ভেতরে যারা অন্তর্ঘাত করেছেন, তাদের নাম সামনে আনতে হবে। তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, “একসময় আমি একাই ছিলাম, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দলও ঘুরে দাঁড়াবে।” আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পাঠানোর কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভোটে জিতেই গান বদল বিজেপির! ‘পালটেছে এইবার’ গানে নয়া বার্তা পদ্ম শিবিরের
পাশাপাশি দলীয় আবেগকে জাগিয়ে রাখতে শপথ গ্রহণের দিন দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশও দেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক লড়াইকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যেতে ‘INDIA’ জোটের সঙ্গে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তাও দেন তৃণমূল নেত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাঁকে সম্মান জানাতে উপস্থিত সবাইকে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানানোর আহ্বানও জানান তিনি। শেষে কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে মমতা বলেন, “নৈতিক ভাবে আমি ওদের হারিয়ে দিয়েছি।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সামলাবেন এবং তিনি নিজে দলের সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বাধা থাকলে অনলাইনে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়ে অভিষেক জানান, তিনি নিজে এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিপ্লব মিত্র, বিমান ব্যানার্জির মতো আইনজীবীরা বিভিন্ন মামলা দেখবেন।
দেখুন আরও খবর:
