ওয়েব ডেস্ক : অবশেষে বনগাঁয় যশোর রোডে সিপিএমের বুক স্টল (CPM Book Stall) বসানোর অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। পুজো প্যান্ডেলের ১০০ মিটারের মধ্যে স্টল বসানো যাবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রাখতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিন শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করেন, অন্যরা স্টল বসানোর অনুমতি পেলেও আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এটি যথার্থ নয়। অন্যরা যখন স্টল বসিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছেন, তখন আবেদনকারীদের বই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিচারপতির কথায়, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য ফলপ্রসূ। বর্তমান প্রশাসন এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও খবর : পুজোর ভিড় এড়াতে কলকাতা মেট্রোয় নতুন সুবিধা, কিউআর কোড ও পেটিএমে সহজেই কাটুন টিকিট
শুনানি চলাকালীন সিপিএমের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি জমি সংক্রান্ত নয়। আবেদনকারী নিজের অধিকার রক্ষার জন্য আদালতে আসতে পারেন। এটি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়। এর উত্তরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, আদালত জানতে চেয়েছিল, কেন অনুমতি দেওয়া যাবে না।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর খুব ভয় পেয়ে রয়েছেন। তিনি নিজের পার্টি অফিসের সামনেই স্টল বসাচ্ছেন। তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, সেখানে কোনও বড় পুজো হচ্ছে কি না এবং অন্য কারা স্টল বসিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, আমি যদি আজ এসে বলি ওঁদের বিল্ডিং এর ওপর নিজের নির্মাণ তৈরি করবো পুলিশি সুরক্ষা চাই। তখন কি পদক্ষেপ করা হবে? ওঁরা জানে অনুমোদন প্রয়োজনীয়।
এর উত্তরে বিচারপতি বলেন, তাহলে বুলডোজার বা জেসিবি চালিয়ে দিতে বলছি। ওখানে কিছু থাকবে না। আপনি কি নিশ্চিত করতে পারবেন ওখানে আর কোনও অস্থায়ী নির্মাণ থাকবে না বা নেই? ওখানে সব ডেমোলিশ করুন। স্টেট্ কে ইউনিফর্ম স্ট্যান্ড নিতে হবে।
অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ওই জায়গায় কোনও অস্থায়ী নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া যায় না। নির্মাণের সময় পুলিশও সুরক্ষা দিতে পারে না। তখন বিচারপতি ফের প্রশ্ন করেন, অন্যরা স্টল বসাচ্ছেন, তাহলে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়? ৬৩ বছর ধরে তাঁরা স্টল বসিয়ে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
