ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ (Iran War) পরিস্থিতির মাঝেই বড় আর্থিক চাপে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) পাকিস্তানকে দেওয়া ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ দ্রুত ফেরত চেয়েছে। সেই চাপেই এপ্রিল মাসের মধ্যেই তিন কিস্তিতে পুরো টাকা শোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ (Islamabad)।
পাক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, ১৭ এপ্রিল ২ বিলিয়ন ডলার এবং ২৩ এপ্রিল ১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের এক শীর্ষ কর্তার দাবি, “জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় কোনও আপস নয়।” তাই দ্রুত ঋণ শোধের পথে হাঁটছে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন: ইরানে ভেঙে পড়া মার্কিন যুদ্ধ বিমান এফ১৫-ই পাইলটকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও একজন
তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই বিপুল অঙ্কের ঋণ শোধ করলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বড় ধাক্কা লাগবে। বর্তমানে প্রায় ২১.৭৯ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থাকলেও, ঋণ পরিশোধের পর তা কমে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে।
এদিকে, চলতি মাসেই আরও ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ শোধ করার কথা রয়েছে পাকিস্তানের, যার মধ্যে রয়েছে ইউরো বন্ডের দায়ও। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই আমিরশাহীর এই কড়া অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে। ঋণ শোধ করে ‘মর্যাদা’ রক্ষা করতে গিয়ে অর্থনীতির চাকা কতটা বিপর্যস্ত হবে, এখন সেই দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

