এক ‘উন্মাদ’ ট্রাম্প এখন নিজের মুখ বাঁচাতে পালাচ্ছেন, তাঁর ঔদ্ধত্য শেষ, তিনি পাকিস্তানকে ধরেও একটা মুখ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন, সেটা এতটাই মজার যে, তাঁর আপাতত হাবভাবকে নিয়ে ঠাট্টা করছে, তাঁকে খোদ আমেরিকার মিডিয়া ‘গ্রেট জোকার’ বলেছে। তিনি এখন বলছেন যে, ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেবার পরিকল্পনা তিনি আপাতত স্থগিত রাখলেন, কারণ ইরানে নাকি প্রতিরোধের সব অস্ত্রই শেষ, তাঁরা নাকি মেনে নিয়েছে সব শর্ত, তাই তিনি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন। বাস্তবটা কী? ট্রাম্প সাহেবের হুমকির পরে ইরান আমেরিকার সঙ্গে সমস্ত কথাবার্তার চ্যানেল থেকে নিজেদেরকে উইথড্র করেছিল, দেশজুড়ে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল, তৈরি হয়েছিল বিশ্ব জনমত, ট্রাম্প সাহেব মাথা নোয়ালেন। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালী খোলা হবে, কিন্তু তা ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসাবে পাকিস্তান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির ফলে লেবাননে ইজরায়েল-হিজবুল্লা সংঘর্ষে থামবে। যুদ্ধবিরতির পরেই তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।
বলুন তো ন্যাড়া বেলতলায় যায় ক’বার? এমনিতে তো একবার গেলেই আর যাবার কথা নয়, কিন্তু আমেরিকা বেলতলায় বার বার যায়, আবারও যাবে। সেই কবে কিউবাতে হাত পুড়িয়েছে, হাত মুখ সব পুড়িয়েছে ভিয়েতনামে, হাত পুড়িয়েছে আফগানিস্থানে, ইরাকে। আবার তেনার নতুন করে হাত মুখ পোড়ানোর জন্য ইরান আক্রমণ করেছিলেন। সেখানেও মুখ পুড়ল। হ্যাঁ, সেই দেশ যা এক বিশাল প্রজ্ঞা আর জ্ঞানের ভিতের উপরেই গড়ে উঠেছে, সেই দেশ যাদের রয়েছে (এক) বিশাল তেলের ভান্ডার, (দুই) রয়েছে এক স্ট্রাটেজিক অস্ত্র, হরমুজ প্রণালীর উপরে দখল। কেবল এই দু’টোর জোরেই ওনারা সারা বিশ্বে ভূমিকম্প এনে দিয়েছেন, বাজার নামছে, তেল বা তার বাই-প্রডাক্টের দাম বাড়ছে। আপনি বাসেই চড়ুন, আর ফাইন ডাইনিং রেস্তঁরাতেই যান, ইরান আপনার পিছু নিয়েছে। হ্যাঁ, সেই ঠ্যালার নাম যে ‘বাবাজি’, সেটা বুঝতে পেরেছেন আমাদের ট্রাম্প সাহেব, বুঝতে পেরেছেন হাত তো পুড়েছে, মুখও পুড়ল, এখন আরও কিছু না পুড়িয়ে যাতে কেটে পড়া যায় তার চেষ্টা করছেন। নানান বিবৃতি দিচ্ছেন, উনি বলছেন, রেজিম নাকি চেঞ্জ হয়েছে, তারপর বলছেন, সেটা নাকি টার্গেট ছিল না, টার্গেট ছিল ইরানের পারমানোবিক অস্ত্র কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দেবার, সেটা নাকি তাঁরা করেছেন, যাঁদের মনে আছে তাঁরা হাসবেন, কারণ সেই কবে গত বছরে বাঙ্কার ব্লাস্টার ছুঁড়ে তিনি এই দাবিই করেছিলেন। সালের শুরুর দিনগুলো থেকেই পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক প্রলয়ংকরী পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা এক ঠান্ডা লড়াইকে প্রকাশ্য আর বিধ্বংসী যুদ্ধে বদলে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায়, প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু ক্ষমতা ধ্বংস করা, দেশটার নৌবাহিনীকে নিঃশেষ করা, আর তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে চিরতরে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। কিন্তু সবাই জানে যে, এগুলো ছিল কথার কথা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই ট্রাম্প সাহেব আসলে চাইছিলেন ইরানে এক পুতুল সরকার বসাতে, ইরান–চীন–রাশিয়া যে অক্ষ গড়ে উঠেছে তার বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সরকারকেই কন্ট্রোল করতে। আর আমেরিকার যুদ্ধ মানেই তো আমেরিকার স্বার্থ, তেল থাকলেই তার দখলদারি, এসব তো সবাই জানে।
তবে যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছিল যে, পরিস্থিতি যতটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে হোয়াইট হাউস মনে করেছিল, বাস্তব তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ইরান কেবল তার প্রচলিত সামরিক শক্তি দিয়ে লড়ছে না, বরং তারা তাদের ভৌগোলিক সুবিধা স্ট্রাটেজিক লোকেশন আর বিশ্ব অর্থনীতির সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোকে সামনে রেখে এক নতুন ধরনের মরণপণ লড়াই শুরু করেছিল। ইরান তার নতুন সামরিক অর্থনৈতিক সামর্থ্য নিয়ে এই যুদ্ধে টিকে থাকার কৌশলে সফল, তারা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল যে হরমুজ প্রণালী আর তাদের বিশাল তেলের ভাণ্ডার বিশ্ব অর্থনীতির উপর যে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেছে, তা এই যুদ্ধকে অনেকদিন টেনে নিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগাবে। একদিকে দেশের ভেতরে ইরানের সাধারণ মানুষ কোনও রাজনৈতিক বিভেদ নয়, বরং দেশ রক্ষার লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকার খোদ নিউ ইয়র্কের মতো বড় শহরগুলোতে যুদ্ধের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল জমায়েত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান ট্রাম্পের উপর এক অভাবনীয় চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক খরচ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ঘায়ে প্রায় পাগল ট্রাম্প এক সম্মানজনক প্রস্থান, ‘গ্লোরিয়াস রিট্রিট’-এর পথ খুঁজছিলেন। আর তার মধ্যে ৩১ মার্চ ভোররাতে ইরানের ইসফাহান শহরে আমেরিকার চালানো বিমান হামলা যুদ্ধকে এক নতুন আর বিপজ্জনক মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছিল, আমেরিকা বুঝতে পেরেছিল, ইরান মাথা নোয়াবে না, ইরান স্থির সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁরা মরবেন কিন্তু মাথা নোয়াবেন না। গত বছর জুনে নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার পর এটা ছিল ইরানের পরমাণু, সামরিক পরিকাঠামোর উপর সবচেয়ে বড় আঘাত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট’ জার্নালের তথ্য বলছে, আমেরিকান ফাইটার জেটগুলো ইসফাহানের এক সামরিক অস্ত্রাগার, আমেরিকার মতে সম্ভাব্য পরমাণু ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের অন্তত পাঁচটা বাঙ্কার বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে। মাথায় রাখুন, ইসফাহান শহরটা ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কেবল তাদের পরমাণু জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রই নয়, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) এক বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার, এখানেই আছে ফাইটার প্লেন তৈরির কারখানা। মার্কিন কর্মকর্তারা সেদিন দাবি করেছিলেন যে, এই হামলা দিয়ে নাকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ আর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক বিশাল অংশ এই সরু হরমুজ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান এই প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এই পথে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। ইরান এরই মধ্যে ‘হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ নামে একটা নতুন আইন তাদের পার্লামেন্টে অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটা জাহাজকে ইরানকে নির্দিষ্ট হারে ‘টোল’ বা কর দিতে হবে, তাও আবার ইরানি রিয়ালে। আর এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমেরিকা ইজরায়েল আর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থনকারী যে কোনও দেশের জাহাজের জন্য এই পথ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলার পার করেছে, খুব শিগগির এটা ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছবে। ইরানের এই ‘হাতে মারতে না পেরে ভাতে মারার’ কায়দা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দার আগাম ইশারা এনে হাজির করেছিল। যা যুদ্ধ শেষ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কাটতে শুরু করেছে। এপিক ফিউরি শুরু করার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এক মাস পার হয়ে গেলেও যুদ্ধের কোনও শেষ কি আমরা দেখেছি? উল্টো প্রতি মুহূর্তে আমেরিকার অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | আমেরিকা–ইরান যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতিতে ডেকে আনছে এক ভয়ঙ্কর মন্দা
তথ্য বলছে, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিদিন খরচ হচ্ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এই খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রতিদিন প্রায় ৮,৪৫৫ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯.৬ লক্ষ টাকা। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের মোট খরচ ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা সরাসরি মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে যাচ্ছে। এমনকি যুদ্ধ বিরতির সময়েও লাগাতার খরচ বাড়ছে, আরও বাড়বে। কাজেই এবারে খুব শিগগির সেই গ্লোরিয়াস রিট্রিট আমরা দেখতে পাবো। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আমেরিকার অন্তত এক ডজন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার প্রতিটার মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। ৩১ মার্চের অসমর্থিত রিপোর্ট বলছে, সৌদি আরবের একটা ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটা মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষতি স্বীকার না করলেও, পেন্টাগনের ভেতরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বিশাল ব্যয়ের উল্টোদিকে আমেরিকার হাতে এখনও পেনসিল ছাড়া কিছুই নেই, সেটা আমেরিকানরা, এমনকি ট্রাম্প ভক্তরাও বুঝতে পারছেন। অন্যদিকে ইরানে শীর্ষ নেতাদের হত্যা বা লাগাতার হামলার পরেও জনগণের মধ্যে কোনও বিদ্রোহ দেখা যায়নি। বরং তারা বর্তমান নেতৃত্বকে দেশ রক্ষার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে শপথ নিচ্ছে। ভাবতে পারেন? বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সামনে এক মিউজিসিয়ান তাঁর বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসেছেন, সুর ছড়িয়ে প্রতিবাদের এই ছবি আজ ভাইরাল। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, তারা কোনও অসম্মানের চুক্তিতে যাবে না, প্রয়োজনে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে।
অন্যদিকে, আমেরিকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২৮ মার্চ আমেরিকার ৩,১০০টারও বেশি জায়গাতে ‘নো কিংস’ স্লোগানে লক্ষ লক্ষ মানুষ মিছিলে সামিল হয়। নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোর রাস্তায় প্রায় ৯ লক্ষ মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে, যা আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ। তাঁরা বলছেন, ট্রাম্পের এই যুদ্ধ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ইগো আর সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ। বার্নি স্যান্ডার্স, রবার্ট ডি নিরোর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই আন্দোলনের সঙ্গে আছেন। এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ট্রাম্পকে যুদ্ধের ময়দান থেকে পাতলি গলি দিয়ে কেটে পড়ার প্রেরণা যুগিয়েছে। ক’দিন আগেই তো তিনি পেয়েছিলেন সেই খবর, এসেছিল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) দেওয়া ১৮টা মার্কিন প্রযুক্তি বাণিজ্যিক কোম্পানিকে ধ্বংস করার হুমকি। এই তালিকায় মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল, মেটা, আমাজন, এনভিডিয়া, টেসলা এবং বোয়িং-এর মতো বিশ্বসেরা কোম্পানিগুলো ছিল। ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছিল সেদিনেই, কর্পোরেট হাউসগুলোর চাপ বাড়ছিল, কাজেই ট্রাম্প সাহেবের পিছু হটা ছাড়া আর কোনও উপায়ও ছিল না। এদিকে বিপদ কি একটা, এতদিনের বন্ধুরা এখন বেসুরে গাইতে শুরু করেছিল। এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমেরিকার দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্পেনের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনকে এক বড় ধাক্কা দিয়েছে। স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রোবলস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা আমেরিকার এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধকে সমর্থন করে না, আর স্পেনের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি আমেরিকান যুদ্ধবিমানকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। স্পেন তাদের রোটা, মোরোন বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কারগুলোকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। স্পেনের এই পথ অনুসরণ করে ইতালিও তাদের সিসিলিতে অবস্থিত সিগোনেলা বিমানঘাঁটি আমেরিকান বিমানের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়েও ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভাবুন একবার ট্রাম্পের দশা, এখন পাকিস্তান তাদের ভরসা। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরাসরি ট্রাম্প আর ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে একটা ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। কিন্তু ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেছেন যে, তারা আমেরিকার কোনও শর্ত মেনে নেবে না, যতক্ষণ না তাদের সার্বভৌমত্ব এবং পূর্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইরানের দাবি হল, আমেরিকার সমস্ত ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রত্যাহার। হোয়াইট হাউসের ভেতরে এখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটা সম্মানজনক প্রস্থানের পরিকল্পনা চলছিল, আর তার মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর ইনার-সার্কেলের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন, এবারে চল পালাই, লড়েছি যথেষ্ট, কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন এমনভাবে যুদ্ধ শেষ করতে যাতে বিশ্ববাসীর কাছে মনে হয় যে আমেরিকা তার লক্ষ্য পূরণ করেছে। সে ইচ্ছেও পূরণ হল না, নিজের আল্টিমেটাম গিলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজেকেই যুদ্ধ বিরতি হয়েছে বলে ঘোষণা করতে হল। বাংলার অলিতে গলিতে ট্রাম্প সাহেব এলে শুনতে পেতেন, বাচ্চারাও চিৎকার করছে, ‘হায় হায় এক কী হল, ট্রাম্প সাহেব পালিয়ে গেল’।
দেখুন আরও খবর:

