6.1 C
New York

Fourth Pillar | নরেন্দ্র মোদির এক ঝুড়ি মিথ্যে

Must Read

অন্য দল ঘোষণাপত্রের কথা বলে, অনেকে ইস্তেহারও বলে, বিজেপি সেটাকেই ধর্মীয় আবহে নিয়ে যাবার জন্যই সংকল্প পত্রের কথা বলে থাকে। কিন্তু এমন নয় যে, তাঁরা যা সংকল্প করছেন তা পূরণ করবেন, বরং না পূরণ হবার সংকল্প অনেক অনেক বেশি। অবশ্য বিজেপির সর্বোচ্চ নেতা মোদিজি কখনও সখনও সত্যি কথা বলেন বটে, কিন্তু তাঁর মিথ্যে বলাটাই সারা বিশ্ব জানে, ভারতের মানুষজন তো আরও ভালো করেই জানেন। উনিই তিনি, যাঁর কলেজের কোনও সহপাঠীকে পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয় উনি যে বিষয় নিয়ে বিএ পাশ করেছেন, সেই বিষয়টাই কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি, স্বাভাবিকভাবেই সেই এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্স পড়ানোর মতো অধ্যাপকদেরও পাওয়া যায়নি। উনিই সেই রাজনৈতিক নেতা, যিনি অন্তত দু’টো নির্বাচনে তাঁর বিবাহিত হবার ঘটনাকেও লুকিয়ে রেখেছিলেন। উনিই সেই নেতা, যিনি যে সময়ে যে স্টেশনে চা বিক্রি করতেন সেই স্টেশনটা সেই সময়ে ছিলই না। এরকম মিথ্যের তালিকা আর মূর্খামির তালিকা দিতে থাকলে আজ আর আসল বিষয়ে কথাই বলতে পারব না। তাই সেই মিথ্যেবাদী, আর তাঁর দলের ২০২৬-এর সংকল্প পত্র নিয়ে আসুন একটু আলোচনা করা যাক, যেখানে একইভাবে অনর্গল মিথ্যে বলা হয়েছে, অনর্গল মিথ্যে।

ধরুন সবচেয়ে বড় দাবি হল, ওনারা সরকারে এলেই নাকি লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ৩০০০ করে দেবেন, মানে এখন ১৫০০ টাকা পান মহিলারা, ওনারা এলে সেটা এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সেই কবে মোদিজি ২০১৪-তে বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলেই নাকি প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা চলে আসবে। সে টাকা আজও আসেনি। এবারে এক্কেবারে ১৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ বেড়ে ৩০০০ টাকা করে দেবেন। তো এই ডাহা মিথ্যেবাদী নেতাকে কেবল একটা প্রশ্ন, বিজেপি শাসিত কোন রাজ্যে বিজেপি মহিলাদের কেবল বয়সের ভিত্তিতে এরকম আর্থিক সাহায্য করে? দিল্লিতে নির্বাচন চলাকালীন এই নরেন্দ্র মোদি ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ বলেছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় আসলে নারী দিবসেই মহিলাদের ২৫০০ টাকা দেবার কথা ঘোষণা করেছিলেন, আজ পর্যন্ত সেটা হয়নি, এক বছর পার হয়ে গিয়েছে। সেদিনেই বলেছিলেন, দুর্গাপুজো, এমনকি ঈদেও ফ্রি গ্যাস সিলিন্ডার দেবেন, দেননি। হ্যাঁ, এটাই বিজেপি। ২০টা রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আছে, কোন রাজ্যে বিজেপি মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেয়? একটাতেও নয়। আসলে ভোট পাবার জন্য মিথ্যে বলাটা ওনাদের আজকের নয় বহু পুরনো অভ্যেস। ধরুন এবারেই, তাঁদের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে মহিলাদের জন্য পুলিশে নয়টা ব্যাটিলিয়ন করা হবে, দুর্গা সুরক্ষা ব্যাটিলিয়ন।

দারুণ শুনতে লাগছে না? এবারে দেখুন ২০২১-এ কী বলেছিল এই বিজেপি? তারা বলেছিল ঐ রাজবংশীদের যুবকদের নিয়ে এক নারায়ণী সেনা করা হবে, নারায়ণী সেনা। তো সেটার জন্য তো রাজ্যের ক্ষমতার দরকার নেই। হয়েছে সেই নারায়ণী সেনা? হয়নি, তার বদলে এবারে দুর্গা সুরক্ষা সেনা, কারণ এবারে ধর্ষণটা ভালো ইস্যু। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যেকটা পুরানো ধর্ষণের মামলাগুলো খোলা হবে আর সেগুলোর বিচার হবে, ২০২১-এ। এই দেশে ৩১,৬৭৭, ২০২২-এ ৩১,৯৮২টা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তো কোন রাজ্যগুলোতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে? এক নম্বরে রাজস্থান, দুই নম্বরে উত্তরপ্রদেশ, তিন নম্বরে মধ্যপ্রদেশ, চার নম্বরে মহারাষ্ট্র, ৫ নম্বরে হরিয়ানা আছে। সবকটা রাজ্য বিজেপি শাসিত। কে মানা করেছে সেখানকার রেপ কেসের মামলাগুলোকে খুলতে? কেন খোলেননি? কেন ১০ শতাংশের বেশি মামলার বিচার এখনও হয়নি? উনি বাংলাতে এসে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এবং সেই মোদিজি এপস্টিন ফাইলে সরাসরি যে হরদীপ সিং পুরীর নাম পাওয়া যাচ্ছে, তাকে মন্ত্রী করে রেখেছেন। কেবল তাই নয় তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন। ২০২১-এও বিজেপির ওই ঢপের সংকল্পপত্রে বলা হয়েছিল, মহিলাদের জন্য চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ করা হবে, ২০২৬-এও সেটা বলা হয়েছে। সেই মোদিজি কেন্দ্র সরকারের চাকরিতে মহিলাদের জন্য কেন কোনও সংরক্ষণই রাখেননি? কেন? কেবল রাজ্য সরকারের চাকরিতে মহিলাদের সংরক্ষণ রাখা হবে? কেন্দ্র সরকারের চাকরিতে হবে না? তাহলে ২০টা রাজ্য সরকার যেখানে বিজেপিই আছে, সেখানে কি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আছে? মানে আরও একটা ঢপবাজি। ২০২১ সালে বিজেপির সংকল্পপত্রে ছিল বাসে বিনা টিকিটে মহিলাদের যাতায়াত, কেন জানি না, সেটা আর এবারের সংকল্পপত্রে নেই।

এবারে আসি যুবকদের কথায়, কর্মসংস্থানের কথায়। ২০২১-এ এই সংকল্পপত্রে লেখা হয়েছিল, প্রতি ব্লকে একটি করে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার এবং পাঁচ বছরে ৫০ লক্ষ কর্মসংস্থান। ২০২৬-এ কিন্তু সেই ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার উবে গিয়েছে, আর কর্মসংস্থান? সারা দেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন, বেকারত্ব তার রেকর্ড ছুঁয়েছে, আর ওই মোদি সরকারের তথ্য বলছে পশ্চিমবঙ্গ গত তিন বছরে ৪৮ শতাংশ বেকারত্ব কমিয়েছে। সারা ভারতের গড় বেকারত্বের তুলনায়, এই বাংলার বেকারত্ব অনেক কম। এবারের সংকল্পপত্রে বলা হয়েছে মাসে ৩,০০০ টাকা বেকার ভাতা (স্নাতক যুবকদের জন্য), এক কোটি কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার সুযোগ। মনে গতবার বলা হয়েছিল ৫০ লক্ষের চাকরি কর্মসংস্থান, এবারে সেটা বাড়ানো হয়েছে আর গ্র্যাজুয়েট যুবকদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে, কিন্তু এ রাজ্যে মাধ্যমিক পাশ করা ৮৪ লক্ষ যুবক যে ১৫০০ করে পাচ্ছে, সেটার কী হবে? তা কিন্তু বলা নেই।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | এসআইআর-এ নাম কাটা, লাইনে দাঁড়ানো, হয়রানি, আসুন জেনে নিই কারা দায়ী?

মিথ্যের এই ঝুড়ির চেহারা দেখলে হাসি পায়। গত বারে, ২০২১-এ বলা হয়েছিল, সিএএ লাগু হবে, আর স্বাভাবিকভাবেই মতুয়াদের বোঝানো হয়েছিল যে, তাঁরা নাগরিকত্ব পাবে। হ্যাঁ, ২০২১ সালের সংকল্পপত্রের সবথেকে বড় প্রতিশ্রুতি ছিল সিএএ লাগু করার, পাঁচ বছরের শেষে এসে লাগু করা হয়েছে, কিন্তু তা নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি, এমনকি সেই নাগরিকত্ব পাবার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গিয়েছে। এবারে অসংখ্য মতুয়া মানুষজনের নাম কাটা গিয়েছে, আর সেটাকে মাথায় রেখেই সিএএ নিয়ে তাঁরা এবারের ঘোষণাপত্রে কিছুই বলেননি। উলটে এসেছে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের কথা, যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড লাগু করতে অস্বীকার করেছে বিজেপির দুই শরিক তেলেগু দেশম আর জনতা দল ইউনাইটেড, যার জন্যই তাঁরা সংসদে এই বিল আনছেন না। সাহস থাকলে গিয়ে বলুন অন্ধ্রপ্রদেশে, সেটা বলবেন না, বাংলাতে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের কথা বলে আসলে হিন্দু মুসলমান মেরুকরণের রাজনীতি করছেন।

আবার দেখুন ২০২১ সালের সংকল্প পত্রে বিজেপি পাঁচ টাকায় তিন বেলা পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য ‘অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন’ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আসলে এটা ছিল মূলত তৃণমূলের ‘মা ক্যান্টিন’-এর পাল্টা একটা রাজনৈতিক ঘোষণা। এবারে ২০২৬ সালের সংকল্প পত্রে এই ক্যান্টিন প্রকল্প জাস্ট ভ্যানিশ, আর নেই! তৃণমূল সরকারের ‘মা ক্যান্টিন’ কিন্তু চলছে, আর তার এলাকাও বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-এ তাঁদের হঠাৎ বাংলা সংস্কৃতির কথা মনে পড়েছিল, ২০২১ সালের ইস্তেহারে বিজেপি ঘোষণা করেছিল যে, তারা আন্তর্জাতিক স্তরে নোবেল বা অস্কারের ধাঁচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর সত্যজিৎ রায়ের নামে পুরস্কার প্রবর্তন করবে। কোথায় গেল? রবি ঠাকুর, সত্যজিৎ রায় কি তাঁদের সহ্য হচ্ছে না? ২০২৬-এ এসে আবার তাঁরা সংস্কৃতির কথা বলেছেন। এবারে বলেছেন, ‘বন্দে মাতরম’ মিউজিয়াম তৈরির কথা, হ্যাঁ, ওনাদের মনে হয়েছে ওই বঙ্কিম’দা-কে ধরেই খানিক ভোট পাওয়া যাবে, এবারে কুড়মালি আর রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি দেবার কথা বলেছেন, কে এতদিন তাঁদের আটকেছিল কে জানে? আবার এই ভাষাতে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ঘোষণা কথাও বলেছেন। মানে গতবারে রবি ঠাকুর, সত্যজিৎ, এবারে রাজবংশী আর কুড়মালি ভাষা নিয়ে একই মিথ্যে বলে চলেছেন তাঁরা।

আসলে নির্বাচনের আগে এক বিশাল মিথ্যের ঝুড়ি এনে হাজির করেছে বিজেপি, সেই মিথ্যেগুলো জায়গায় জায়গায় নরেন্দ্র মোদি আওড়াচ্ছেন। সেই মিথ্যের সবথেকে বড় মিথ্যে হল- (১) জনবিন্যাস পালটে যাবে। একটু খেয়াল করে শুনলে বুঝতে পারবেন, প্রধানমন্ত্রীর মতো পদে বসে থাকা এক মানুষ এত বড় একটা কথা বলছেন, যে জন বিন্যাস পালটে যাবে, সোজা কথায় মুসলমানেরা সংখ্যায় বেড়ে যাবে, হিন্দুদের সারপাস করবে, হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে উঠবে। কিন্তু একটু খেয়াল করে দেখুন তার স্বপক্ষে একটা, একটা তথ্যও তিনি বা বিজেপি বা সরকার কেউ দিচ্ছেন না। কারণ এই মুহূর্তে একটা এমন তথ্য নেই, যা দিয়ে প্রমাণ করা যায় যে, দেশে মুসলমান জনসংখ্যা আগামী ১০-২০-৩০-৫০ তো ছেড়েই দিন, আগামী ১০০ বছরেও হিন্দু জনসংখ্যাকে ছাপিয়ে উপরে উঠে যাবে। কারও যদি এই বিষয়ে অন্য মত থাকে, চ্যালেঞ্জ করছি, হ্যাঁ প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছি তথ্য পাঠান, আপনার তথ্য নিয়ে আলোচনা করব এই চ্যানেলেই। তথ্য পাঠাবেন aniket9163@gmail.com – এই ইমেইলে। হ্যাঁ, ওপেন চ্যালেঞ্জ রইল, এমন তথ্য, সরকারি তথ্য দিন যা, প্রমাণ করতে পারে যে মুসলমান জনসংখ্যা আগামী ৫০ বছরেও হিন্দু জনসংখ্যাকে সারপাস করে বেড়ে উঠতে পারে।

দু’নম্বর মিথ্যে হল, ঘুসপেটিয়ার তত্ত্ব, বহুবার বহুবার বলেছি, লাখে লাখে ঘুসপেটিয়া আসছে এমন কোনও তথ্য নেই, সরকারের কাছেও নেই, উলটে সমস্ত তথ্য বলছে আমাদের পূর্ব সীমানা দিয়ে এখন ঘুসপেটিয়া প্রায় নেই। যদি বা থাকে, তাঁদের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা নেই বললেই চলে। তিন নম্বর মিথ্যে হল, চাকরি নিয়ে, চুড়ান্ত মিথ্যে। চাকরির তথ্য নিয়ে আগেও বলেছি আবারও বলছি, আনখ মিথ্যেবাদী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারে নেমে বলেছেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে বহু শূন্যপদ আছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র সরকার হলেই ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যে সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ হবে। তুলে দেওয়া সমস্ত স্থায়ী পদে দুই মাসের মধ্যে নিয়োগ, সপ্তম বেতন কমিশন ইত্যাদি নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতির বহরই বলে দেয় কতটা মিথ্যে তিনি বলছেন। উনি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ করে ফেলবেন। তাহলে একটা খুব সরল প্রশ্ন করি, স্বাভাবিক প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকারের যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ আছে সেখানের নিয়োগ হচ্ছে না কেন? কে আটকাচ্ছে? কার বাবা? কার পিসি? কার জ্যাঠামশাই? ওনাদের তথ্য বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে মোট অনুমোদিত পদ, মানে মোট যত কর্মচারী নিয়োগ করা সম্ভব, তার প্রতি চারটে পদের মধ্যে একটা খালি পড়ে রয়েছে। নিয়োগ করেনি সরকার। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক আর দফতরে মোট স্যাংসনড পোস্ট, অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪০ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৮২। এর মধ্যে খালি পড়ে রয়েছে বা নিয়োগ হয়নি ৯ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯৩২। অর্থাৎ প্রায় ১০ লক্ষ পদ খালি পড়ে রয়েছে, নিয়োগ করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। উনি বংগালে এসে ঢপবাজি করছেন। হ্যাঁ, বাংলাতে খালি পদ পড়ে আছে বৈকি। বাংলা থেকে যে অর্থ যাচ্ছে, তা ফেরত আসছে না, সামাজিক প্রকল্পের বোঝা চেপেছে রাজ্য সরকারের উপর। কিন্তু অমিত শাহ কি দয়া করে বলবেন, আপনাদের ১০ লক্ষের বেশি শূন্যপদ পড়ে আছে কেন? সেগুলো কোন নির্বাচনের পরে, আর কোন ক্ষমতা পেলে পূর্ণ করা হবে? কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বেতন ভাতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য পেয়ে যাবেন, এই পরিসংখ্যান ২০২৩ সালের ১মার্চ পর্যন্ত। আচ্ছা ছোটা মোটাভাইয়ের নিজের মন্ত্রকের অবস্থাটা কী? অর্থ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতায় মোট ১১ লক্ষ ১২ হাজার ৮৪১টা পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ২১০টা পদ খালি পড়ে রয়েছে। এই একদা তাড়িপারের আওতায় আছে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী যার তলায় বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, আসাম রাইফেলস, এসএসবি এবং এনএসজি রয়েছে, সেখানেই ১ লক্ষ ৪ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। যা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু এনএসজি-তেই ১৩৪৮টি পদ খালি রয়েছে। এখানে নির্বাচনের আগে এসে খালিপদের বাওয়াল দিচ্ছেন অমিত শাহ। আরও আছে ভারতের সরকারি ক্ষেত্রে এমপ্লয়মেন্টের সবচেয়ে বড় জায়গা হল ভারতীয় রেল। অর্থ মন্ত্রকের অ্যানুয়াল রিপোর্ট অন স্যালারি অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্স, পে রিসার্চ ইউনিটের ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের প্রতিবেদন বলছে, রেল মন্ত্রকে মোট পদ আছে ১৪ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩৯৬টা। সেখানে নিয়োগ হয়েছে ১১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৩৯টা পদে। মানে কেবল রেলেই শূন্যপদ পড়ে রয়েছে ৩ লক্ষের বেশি। কবে সেই শূন্য পদে লোক নেওয়া হবে? এতদিন পড়ে আছে কেন? গোটা দেশেই ডাক ব্যবস্থা ধুঁকছে কর্মী সংকোচনের জেরে। ডাক বিভাগে মোট স্যাংশনড পোস্টের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৭১টা সেখানে কাজ করছেন কতজন? ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪১২ জন। মানে শূন্যপদের সংখ্যা ৭৩ হাজার ২৫৯। রাজস্ব বিভাগের ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ১৩২টা অনুমোদিত পদের মধ্যে শূন্যপদের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৪৭।

মোদি সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখিয়েই বলা যায়, আগের ইউপিএ সরকারের তুলনায় বিজেপি সরকার আসার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগের হার অনেক কমেছে। শূন্যপদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুনের বেশি। মোদি, অমিত শাহ বলছেন বাংলাতে ক্ষমতায় এলেই নাকি এই রাজ্যের শূন্যপদ ভরে দেবেন। আসলে বাংলা দখলের জন্য বিজেপির প্রথম দ্বিতীয় আর তৃতীয় স্ট্রাটেজি হল মিথ্যে, আরও মিথ্যে, আরও বড় মিথ্যে। সেই অনর্গল মিথ্যেই বলে চলেছেন এই মোদি-শাহ। রোজ বক্তৃতা দিচ্ছেন, রোজ মিথ্যে বলছেন। গতকালও বলেছেন, আজ বলছেন, আগামীকালও মিথ্যেই বলবেন।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

দাড়ি রাখলেই জরিমানা! প্রশ্নের মুখে যোগীরাজ্যের হাসপাতালের নির্দেশিকা, চরমে বিতর্ক

ওয়েব ডেস্ক: মুখে রাখা যাবে না দাড়ি (Beard), মহিলাদের বাঁধতেই হবে চুল- সম্প্রতি কর্মীদের উপর ফতোয়াস্বরূপ একগুচ্ছ নিয়ম জারি...

More Articles Like This