ওয়েবডেস্ক- পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East) চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) । দেশবাসীকে আশ্বস্থ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের তেল ও এলপিজি বোঝাই বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেন।
মোদি সাফ জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা এবং হরমুজ প্রণালী আটকে দেওয়া সম্পূর্ণ “অগ্রহণযোগ্য”।
মোদি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, ও সার আমদানি এই বড় অংশ দিয়েই আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এলপিজি ও পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি ভারত ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হয়ে থাকে। ফলে এক বা একাধিক উৎসে সমস্যা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মোদি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে ভারতের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- জ্বালানি সঙ্কট আবহে মিলবে অর্ধেক ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডার? মাথায় হাত গৃহস্থের? এবার কী হবে?
প্রধানমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের আবহে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জাহাজ হরমুজ পার হতে সমস্যার সম্মুখীন হলেও, মোদি সরকারের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, পরিস্থিতি জটিল হলেও ভারত আগে থেকেই নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা কম। ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা নিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

