ওয়েব ডেস্ক: আমেরিকার চোখ রাঙানির সামনে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে মোদির ভারত। এবার ট্রাম্পের ‘জিগরি দোস্ত’ নেতানিয়াহুর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনীত একটি ‘ডকু ড্রামা’ সিনেমার মুক্তি আটকে দিল সিবিএফসি। মধ্যপ্রাচ্যের এক ছয় বছরের শিশুর মর্মান্তিক পরিণতির কাহিনি নিয়ে তৈরি এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে সেদেশের আসল পরিস্থিতি। যুদ্ধ পরবর্তী গাজার বিভিন্ন দিককেও দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়। সেই কারণেই কি ভারতে দেখানো হবে না এই বাস্তবধর্মী সিনেমা? শুরু হয়েছে জল্পনা।

সম্প্রতি, অস্কার-মনোনীত ফ্রান্সের ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’ (The Voice of Hind Rajab) সিনেমার মুক্তি আটকে দিয়েছে সিবিএফসি (CBFC)। টিউনিশিয়ার পরিচালক কাউথার বেন হানিয়া (Kaouther Ben Hania) পরিচালিত এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে গাজার পাঁচ বছরের শিশুকন্যা হিন্দ রাজাবের মর্মান্তিক মৃত্যু। ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি, গাজার তেল আল-হাওয়া অঞ্চলে বোমাবর্ষণের মধ্যে পরিবার-সহ পালানোর চেষ্টা করছিল হিন্দ রাজাব। সেই সময় একটি গাড়িতে আটকে পড়ে ৩৩৫টি বুলেটের আঘাতে মৃত্যু হয় তাঁর। ছবিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে প্যালেস্তিনীয় রেড ক্রেসেন্ট সোসাইটি তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কিছুতেই প্রাণে বাঁচেনি ঐ শিশুকন্যা। প্রায় দুই সপ্তাহ পর উদ্ধার হয় হিন্দ, তার পরিবার ও দুই স্বাস্থ্যকর্মীর দেহ। বাস্তবে এরকম এক ঘটনা ঘটেছিল সেই সময়, যা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: পর্দায় মোদি, হলজুড়ে উল্লাস! ‘ধুরন্ধর ২’-এর কোন দৃশ্যে চমক দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
বাস্তবধর্মী এই ‘ডকু ড্রামা’টি ভারতে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে তা স্থগিত আপাতত রাখা হয়েছে। ছবির ডিস্ট্রিবিউটর মনোজ নন্দওয়ানা জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি সিবিএফসি-কে ছবিটি দেখানোর পর তাঁকে জানানো হয়—এই ছবি মুক্তি পেলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পরিচালক বেন হানিয়া। তিনি বলেন, “ভারতকে ভালোবেসে বড় হয়েছি। বলিউড আমার শৈশবের অংশ। একটি সিনেমা কি এতটাই শক্তিশালী যে তা দুই দেশের সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারে?”

‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’ ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয় ভেনিসের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ-সহ একাধিক পুরস্কার জিতে নেয় ছবিটি এবং পায় দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশন। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশ, যাদের ইজরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, সেখানে ছবিটি ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সাফল্য সত্ত্বেও আপাতত ভারতে এই ছবির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

এই ছবির মুক্তি আটকে দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর (Shashi Tharoor) এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রিনাতে এবং এনসিপি নেতা অনীশ গাওয়ান্দেও একই সুরে সরকারের সমালোচনা করেছেন।
দেখুন আরও খবর:

