কলকাতা: বঙ্গে বেজে গিয়েছে নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) দামামা। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীনভাবে প্রশাসনিক ও পুলিশের শীর্ষপদে রদবদল করেছে। তা নিয়ে একাধিকবার কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে নির্বাচনী ইস্তেহার (TMC Releases Manifesto) প্রকাশের আগে বিজেপিকে নিশানা করে একের পর এক আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)।তাঁর কথায়, ”অঘোষিত নয়, এখানে ঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন হচ্ছে। লজ্জা! ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে ইস্তাহার প্রকাশ তৃণমূল-কংগ্রেসের। প্রতিজ্ঞা নামে ভোটের ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। ইস্তাহারে ১০টি অঙ্গীকারের উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা, শিল্প, চাকরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আবাস, লক্ষ্মী থেকে বেকার ভাতা… সামাজিক প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। ইস্তাহার থেকে নতুন প্রকল্পেরও ঘোষণা করা হয়েছে। দুয়ারে সরকারের পাশাপাশি এবার থেকে দুয়ারে চিকিৎসা হবে। সেই সঙ্গে ‘সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Laxmir Bhandar) পাবে। ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২১-এর বিধানসভা ভোটে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্প ডিভিডেন্ড দিয়েছিল তৃণমূলকে। মহিলাদের ঢালাও সমর্থন পেয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছিল রাজ্যের শাসকদল। এবারও সেই অস্ত্রতেই শান দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে দলের ইস্তেহার প্রকাশ করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্কিম নিয়ে এদিনও মমতা বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি আমরা করেছি। এবং বলে দিয়েছি, সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে।” এর পাশাপাশি নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কেউ বলে আমরা করব, তারা ভোটের সময় বলবে, কিন্তু পরে করবে না। কিন্তু, আমরা করে দেখিয়েছি। এবং একমাস আগেই করে দিয়েছি।” তাঁর সংযোজন, “এখন সাধারণ মহিলারা পাচ্ছেন দেড় হাজার। মানে, বছরে ১৮ হাজার টাকা। আর তফসিলি জাতি এবং আদিবাসীদের জন্য ১৭০০ টাকা অর্থাৎ বার্ষিক ২০ হাজার ৪০০ টাকা।”
আরও পড়ুন: অঘোষিত নয় এটা ঘোষিত এমার্জেন্সি, রাষ্ট্রপতি শাসন: মমতা
মমতা বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার বৃদ্ধি করেছি। বলেছি, সারা জীবন পাবে। যদি কেউ বলে, করব, তারা ভোটের সময় বলবে করব, তার পরে করব না। আমরা করে দিয়েছি। সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছেন দেড় হাজার টাকা। তফসিলি জাতি, জনজতিরা বার্ষিক পাচ্ছেন ২০,৪০০।’’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা যা বলি সেটা করে দেখাই৷ বাংলার আর কোনও উন্নয়ন বাকি আছে বলে মনে হয় না৷ আগামী দু এক বছরে আমরা চাইব সব বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেব৷ প্রত্যেকের কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেবো৷ বিধবা এবং প্রবীণদের ভাতা কিছু বাকি আছে, যাঁদের বাকি আছে সেটাও অনুমোদন দেওয়া হবে৷ যুবসাথী প্রকল্পে আমরা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের হাত খরচের জন্য আমরা ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি৷ আমরা ২ কোটি ছেলেমেয়েকে চাকরি দিয়েছি৷’মমতা বলেন, তৃণমূল সরকার ছাড়া বাংলাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। এই সরকার মানুষের পাশে, মানুষের স্বার্থে, মানুষের জন্য। সবার জন্য দরকার, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।

