কলকাতা: রাজ্যে ভোট (Assembly Election 2026) ঘোষণা হতেই ‘অতি সক্রিয়’ হয়ে প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission), যা এক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। আচমকা ভিনরাজ্যে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে এবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি লিখে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করার পর সন্ধ্যায় তিন পাতার চিঠি পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তিনি ‘স্তম্ভিত’। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে রাতারাতি বদলি করে দেওয়ায় রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই ধরনের পদক্ষেপ একেবারেই অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: রাজ্যের আরও ৬ আইএএস অফিসারের বদলি! ভোটের আগে ‘অতি সক্রিয়’ কমিশন, অভিযোগ তৃণমূলের
শুধু তাই নয়, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষের কাছাকাছি ভোটারে ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এর মধ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশের আগেই প্রশাসনিক রদবদলে কমিশনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, ভোটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে এভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
চিঠিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মার্চ-এপ্রিল মাসে রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকে। এই সময়ে একসঙ্গে রাজ্যের এত আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে তিনি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্র কাজ করছে।
দেখুন আরও খবর:

