কলকাতা: বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) একের পর এক পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রবিবার মাঝরাতেই মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব বদলের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন। এরপর সোমবার সকালে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদেও একাধিক রদবদল করা হয়। এই দ্রুত পদক্ষেপে কমিশনের ‘অতিসক্রিয়তা’ দেখছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (Tmc)। তারই প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করলেন তৃণমূল সাংসদরা। অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করেন তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O Brayen)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির (BJP) অঙ্গুলিহেলনেই নির্বাচন কমিশন এত তৎপরতা দেখাচ্ছে এবং নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
এদিন এক্স (X) হ্যান্ডলেও বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেন ডেরেক। কমিশনকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, “ধরুন আমি সাদা শার্ট পরেছি, কিন্তু কমিশন নিজের ক্ষমতাবলে সেটাকেই নীল শার্ট বলে দাবি করবে। মাঝরাতে যেভাবে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানোর বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, তা নজিরবিহীন।” এই পদক্ষেপের প্রতিবাদেই রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন তৃণমূল সাংসদরা।
আরও পড়ুন: হাতে মাত্র কয়েকঘণ্টা! আজই দায়িত্ব নেবেন পুলিশ প্রশাসনের নতুন কর্তারা
এদিকে লোকসভাতেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় ভোট জিততে বিজেপি সবরকম কৌশল প্রয়োগ করছে, এমনকী নির্বাচন কমিশনকেও ব্যবহার করছে। তবে বাংলার মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই থাকবে বলেই দাবি করেন তিনি।
শতাব্দীর অভিযোগকে সমর্থন করেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদব। তাঁরও দাবি, রাতারাতি বাংলায় আমলা বদলের নেপথ্যে বিজেপির প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, এই অভিযোগের জবাব দিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার কমিশনের রয়েছে। তাই কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে বিতর্ক হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
