কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে SIR (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত মামলার শুনানি যে এজলাসে চলছে, সেই এজলাসেরই এক বিচারপতির নামের বাংলা বানান ভুল পাওয়া গেল চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। ঘটনাকে ঘিরে ন৬তুন করে বিতর্ক তুঙ্গে।
শনিবার নির্বাচন কমিশন SIR–এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। ইংরেজি ও বাংলা, দুই ভাষাতেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ, বাংলায় প্রকাশিত তালিকায় বহু ভোটারের নামের বানানে গুরুতর ভুল রয়েছে। সেই তালিকাতেই দেখা গিয়েছে, Supreme Court of India–এর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী–র নামের বাংলা বানান ভুল। যদিও ইংরেজি সংস্করণে তাঁর নাম সঠিকভাবেই রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রতীক পাওয়ার আগেই বদলে গেল হুমায়ুনের দলের নাম!
বিচারপতি বাগচী দক্ষিণ কলকাতার রসবিহারী কেন্দ্রের ভোটার। যোগ্য ভোটার হিসেবে তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও, বাংলায় এমনভাবে নাম লেখা হয়েছে যে তা উচ্চারণ করাই কঠিন বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, SIR মামলার শুনানিতেই নামের গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি বাগচী। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানির সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার ব্যবহারের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নামের সামান্য পার্থক্য, যেমন ‘কুমার’ মধ্যনাম বাদ পড়লেই, ভোটারদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যা যুক্তিসঙ্গত নয়। এবার সেই বিচারপতির নামেই ভুল ধরা পড়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুধু একজন বিচারপতি নন, রাজ্যের বহু ভোটারের নামের বাংলা বানানেই ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের নামের বানানেও ভুল পাওয়া গিয়েছে। যদিও Election Commission of India স্বীকার করেছে যে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই এই ভুল হয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকার ইংরেজি সংস্করণই মূল নথি হিসেবে বিবেচ্য। প্রান্তিক মানুষের সুবিধার জন্য বাংলা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ভুল সংশোধন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, ইংরেজি তালিকাই যদি নির্ভরযোগ্য হয়, তা হলে ভুলে ভরা বাংলা তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন কী? প্রান্তিক মানুষরা কি নিজেদের নাম বিকৃত অবস্থায় দেখে সন্তুষ্ট হবেন?
অভিযোগ উঠেছে, নতুন ভোটার কার্ডেও এই ধরনের ভুল রয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকায় থাকা ভুলগুলিই চূড়ান্ত তালিকায় থেকে গিয়েছে বলে দাবি।
সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতার কারণেই এই গরমিল। বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করলে এমন ভুল অনেকটাই এড়ানো যেত। এই পরিস্থিতিতে SIR প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন।
