ওয়েব ডেস্ক: দেশজুড়ে বাড়ছে ভূমিকম্পের (Earthquake) ঘটনা। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ও হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে, একের পর এক মাঝারি ও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালেই ভারতের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৪.০ বা তার বেশি ম্যাগনিটিউডের (Richter Scale) ৪৫১টির বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১।
রাজ্যের কথা বললে, গত এক বছরে কলকাতা (Earthquake In Kolkata) ও দক্ষিণবঙ্গেও একাধিকবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। আজই ৫.৫ মাত্রার কম্পনে কেঁপে ওঠে শহর। এর আগে ২১ নভেম্বর ২০২৫-এ ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় শহরে কেঁপে। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও প্রশ্ন উঠছে—ভূমিকম্পের ঘটনা কেন বাড়ছে? আর জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক আছে কি? চলুন এর কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে দেখা যাক।
আরও পড়ুন: কলকাতায় ভূমিকম্প! কেঁপে উঠল পায়ের তলার মাটি! শহরজুড়ে আতঙ্ক
ভূমিকম্পের মূল কারণ কী?
ভূমিকম্পের প্রধান কারণ টেকটোনিক প্লেটের (Tectonic Plate) নড়াচড়া। পৃথিবীর উপরের স্তর এবং ম্যান্টেলের উপরের অংশ মিলে তৈরি হয়েছে একাধিক বিশাল প্লেট। পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ এই প্লেটগুলিকে বছরে প্রায় আধ ইঞ্চি করে সরিয়ে দেয়। ফলে এই প্লেটগুলি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং একে অপরের উপরে উঠে বা নিচে নেমে যায়। এর ফলে ফল্ট লাইনে প্রচণ্ড চাপ জমে। যখন সেই চাপ হঠাৎ মুক্তি পায়, তখনই ভূমিকম্প ঘটে। ভারতের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এখানে ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত। এই সংঘর্ষই হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি করেছে এবং এখানেই সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই কি বাড়ছে ভূমিকম্প?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) ফলে বাড়তে পারে ভূমিকম্প। তাঁদের যুক্তি, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এই গলিত জল সমুদ্রে গিয়ে মিশছে, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সমুদ্রের জলস্তর বাড়লে সমুদ্রতলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে টেকটোনিক প্লেটের ফল্ট লাইনে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এই চাপ দীর্ঘ সময় ধরে জমে থেকে হঠাৎ মুক্তি পেলে বড় ভূমিকম্প ঘটার সম্ভাবনা বাড়ে, যার পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে ঝুঁকি?
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক শতক থেকে এক হাজার বছরের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই উল্লেখ করা হয় ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান অ্যানদ্রিয়াস ফল্টের (San Andreas Fault) কথা, যা প্রায় ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফল্ট লাইন। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট ও উত্তর আমেরিকান প্লেটের সীমানা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এই অঞ্চলে চাপের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেখুন আরও খবর:
