ওয়েবডেস্ক- প্রথম বাঙালি কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি (First Bengali Central Vice President) মুকুল রায়কে (Mukul Roy) শ্রদ্ধা জানাতে নীরব কেন বিজেপি (BJP) ? শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হাতে তৈরি জনসঙ্গ। পরে যা বিজেপি হয়। সেই বিজেপির প্রথম বাঙালি কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। এই রকম এক নেতাকে নিয়ে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা নীরব কেন ? প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের বিরোধী দল নেতা ছাড়া এখনও শোক জানালেন না কেউ। সাংবিধানিক পদের দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল নেতার এই শ্রদ্ধা। দলে প্রশ্ন উঠেছে মৃত নেতার প্রতি কেন নেতাদের এত কুন্ঠা ?
মুকুল রায় যখন বিজেপিতে ছিলেন, তখন রাজ্য বিজেপিতে লোকসভা এবং বিধানসভা বড় সাফল্য এসেছিল। পরে মুকুল রায় দল বদল করেন।
তবুও প্রচলিত রীতি অনুসারে মৃত ব্যক্তির প্রতি কেন কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং রাজ্য সভাপতি সহ অন্য নেতারা নীরব? কেন তার মৃতদেহ রাজ্য বিজেপি দফতরের শ্রদ্ধা জানাতে এলেন না? উত্তর খুঁজছেন কর্মীরা।
একসময়ের দক্ষ রাজনীতি মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তৃণমূল। তাঁকে উপযুক্ত শ্রদ্ধা জানিয়েছে শাসক দল। ২০২১ সালে একবারই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত মুকুল রায়। বিজেপির প্রতীকে জিতলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তৃণমূল ছেড়ে কিছু সময়ের জন্য বিজেপিতে চলে গেলেও এই বর্ষীয়ান নেতাকে কোনওদিনই ভোলেনি তৃণমূল। তাই আজ মুকুল রায়ের ছেলেও বলেছেন, সব সময় পাশে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে ছুটে আসেন শুভ্রাংশু।
বাবার মৃত্যুতে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন। তিনি সমস্ত ব্যবস্থা করেছেন। সোমবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েই দলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল নেতৃত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানান। পরে বিধানসভায় মরদেহ যাওয়ার পর শ্রদ্ধা জানান, অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের মন্ত্রী বিধায়করা।
আরও পড়ুন- বিধানসভায় মুকুল রায়কে ফুলেরস্তবকে শ্রদ্ধা অভিষেকের
অপরদিকে মুকুল রায়কে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সহ কাউন্সিলার সজল ঘোষ। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতাদের পক্ষ থেকে কোনও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে দেখা যায়নি। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে বাঙালি বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে এত কুন্ঠা কিসের বিজেপির? তবে এখানে আরও বড় বিষয় হল, জীবিত থাকতেও অসুস্থ মুকুলের খোঁজ নেয়নি বিজেপি, এমনটাই অভিযোগ তার পরিবারে। বিজেপির কয়েকজন বিধায়ক বিধানসভায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
