ওয়েব ডেস্ক : বয়স মাত্র ২৩ বছর। অ্যাকাউন্টিংয়ের ছাত্রী নাজমেহ আমিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। আর সেই অভিযোগের জেরেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে ইরানের (Iran) আদালত। তবে এই সাজা এখনও চূড়ান্ত নয়। ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর সুযোগ রয়েছে তাঁর।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রথমবার গ্রেফতার হন নাজমেহ। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি মাশহাদে তাঁকে ফের গ্রেফতার করে সাইবার পুলিশ। অভিযোগ, অনলাইনে তাঁর কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার পর ধর্মীয় অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয়ভাবে সম্মানিত ইমামদের উদ্দেশে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর অভিযোগে পৃথক মামলায় তাঁকে ১২ বছর ৬ মাস ১ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।
আরও খবর : রাশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প! কামচাটকা উপদ্বীপে কম্পনের মাত্রা ৭
ইরানের (Iran) সংবাদপত্র ‘খোরাসান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে নাজমেহ দাবি করেছিলেন, বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেডেলিক মাশরুম খাওয়ার পর বিভ্রমের অবস্থায় তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, মন্তব্যগুলি ইচ্ছাকৃত ছিল না। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
জেল থেকে পাঠানো এক অডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে নিজের হয়ে কথা বলার আবেদন জানিয়েছেন নাজমেহ। তাঁর কথায়, “আমি অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা এক নির্দোষ তরুণী। আমার বাবা-মা আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমার নাম মনে রাখবেন। হয়তো আর কথা বলার সুযোগ পাব না। কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন একটি আশাই ধরে রেখেছি—আমার জীবনের ইতি ঘটার আগে যেন একটি সমৃদ্ধ ও স্বাধীন ইরান দেখতে পাই।”
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। ইরান হিউম্যান রাইটসের অধিকর্তা মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের কারণে এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংগঠনটির দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৬০৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
