ওয়েব ডেস্ক : যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানো কোনও অপরাধ নয়। বরং এই প্রতিবাদের জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষতা। সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির প্রতিবাদে বুধবার এভাবেই সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। একই সঙ্গে যন্তর মন্তরকে ফের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। রাহুলের এই বার্তার পর তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল লেখেন, ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ, সাংবাদিক এবং ইন্ডিয়া জোট, ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন হলেও সবার দাবি সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদের মঞ্চ আলাদা হলেও মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই এক। যন্তর মন্তর সাধারণ মানুষের জায়গা এবং সেটি তাঁরা পুনরুদ্ধার করবেন বলেও জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।
আরও খবর : এয়ার ইন্ডিয়ায় ‘হাইজ্যাক’ অ্যালার্ট! জয়পুরে জরুরি অবতরণ বিমানের
মূলত, মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-সহ ১৪ জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, তাঁরা তালাবন্ধ ফটক ও ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা। বুধবার তাঁদেরকে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। এর পর সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
পুলিশের দাবি, এর আগে শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে বন্ডে স্বাক্ষর করে মুক্তি পেয়েছিলেন অভিযুক্তরা। ফের যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁরা সেই শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ পুলিশের। অন্যদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তুলেছেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানো কীভাবে শান্তিভঙ্গের কারণ হতে পারে?
উল্লেখ্য, সোমবার যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় কেন্দ্র। বিকল্প হিসেবে দিল্লির তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ ও জমায়েতের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরদিনই যন্তর মন্তরে ঢুকে সিজেপির সদস্যদের বিক্ষোভ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে।
