ওয়েব ডেস্ক : পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যু হল অন্তত ১০৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ১৫ জন শিশু রয়েছে। এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে জিবুতির ওবক বন্দর এলাকার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আইওএমের জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইসাক এই ঘটনাকে ভয়াবহ প্রাণহানি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, উন্নত জীবন ও কাজের সন্ধানে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অভিবাসীদের কতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, এই দুর্ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ। নিহতদের পরিবার এবং নিখোঁজদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন মহিলা ও শিশুরা রয়েছে বলে খবর। বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা সকলেই ইথিওপিয়ার নাগরিক। স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করছে। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আরও খবর : আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম হবে ‘ট্রাম্প ওশিয়ান’! কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পেরিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলিতে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। নিরাপদ আশ্রয় এবং কাজের সন্ধানেই তাঁদের এই যাত্রা। জিবুতি থেকে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী পেরিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন অনেকেই। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেন। তার মধ্যেও অভিবাসীদের যাতায়াত থামেনি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ায় তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার এই সমুদ্রপথে ৯০০-র বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে অথবা তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন। ওই বছর এই পথে যাত্রার চেষ্টা বেড়েছিল ১৮ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের নৌকাডুবিতে ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং ৪৫ জন নিখোঁজ হন। নতুন এই দুর্ঘটনার পর সমুদ্রপথে অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
