ওয়েব ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ করা হল প্রকাশ রাজপুরোহিতকে ( Prakash Rajpurohit)। রাজস্থান ক্যাডারের ২০১০ ব্যাচের আইএএস আধিকারিককে এই পদে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রের নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি। গত অগস্টে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সঞ্জয় কুমারকে। তাঁর জায়গাতেই এবার এলেন প্রকাশ। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে থাকবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জয় কুমার (Sanjay Kumar)। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে চলতি বছরের অগস্ট পর্যন্ত এই দায়িত্ব সামলান তিনি। ২০২৫ সালের ২৪ জুন দেশে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ সংক্রান্ত নথিতেও তাঁর সই ছিল। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সঞ্জয় কুমারের দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলির কাজের পদ্ধতি নিয়েই সম্প্রতি কমিশনের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান সীমা খন্নার ফাইল কীভাবে নির্বাচন কমিশনারদের কাছে পাঠানো হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল।
আরও খবর : শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ধরপাকড় করা যাবে না, মেট্রো-রেল বন্ধ করে আদালতে ভর্ৎসিত কেন্দ্র
সীমা খান্না ২০২৫ সালে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার থেকে ডেপুটেশনে নির্বাচন কমিশনে যোগ দেন। ভোটার তালিকার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা-সহ কমিশনের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর দায়িত্ব রয়েছে তাঁর বিভাগের হাতে। আগে তাঁর ফাইল সঞ্জয় কুমারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনারদের কাছে পাঠানো হত। পরে সীমার পদোন্নতির পর ফাইল পাঠানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় সীমার ফাইল সরাসরি নির্বাচন কমিশনারদের কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন। তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। সঞ্জয় কুমার দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর বিভাগের ফাইল মণীশ গর্গের মাধ্যমেই পাঠানো হত ।
এদিকে, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজের পদ্ধতি নিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ফাইল পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং সঞ্জয় কুমারকে দায়িত্ব থেকে সরানোর বিষয়েও আপত্তি উঠেছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে শনিবার বেশি রাতের দিকে কেন্দ্রের কর্মিবর্গ এবং প্রশিক্ষণ দফতর নিয়োগ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। সেখানেই ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি।
