ওয়েব ডেস্ক : দিল্লিতে বিক্ষোভ (Delhi protest) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় করেছে পুলিশ। অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস দিল্লিতে পৌঁছতেই বিমানের ভিতরে তাঁদের আটক করা হয়। তিন জনকেই আলাদা আলাদা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিজিৎকে সম্ভবত গুরুগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে সৌরভকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নয়া দিল্লির কোনও অজ্ঞাত গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, আশুতোষকে সম্ভবত দ্বারকার কোনও অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও (Dhruv Rathee) আটক করেছে পুলিশ । সকাল ৭টা ১০ মিনিট নাগাদ গুরুগ্রামে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় দিল্লি ও গুরুগ্রাম পুলিশের যৌথ দল। কেন্দ্রীয় বিহারের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে বর্তমানে তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির আইনি সেলের প্রধান রত্না সিংকেও। ধ্রুবের মতো রত্নাকেও কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি। রাজস্থানে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা দীপক বালিয়াকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশ তাঁর আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
আরও খবর : ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান
আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। নয়া দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর চলো’ অভিযানে অংশ নিয়ে হাজারেরও বেশি মানুষ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে অভিযোগ। আটক করা হয়েছে ডিজিটাল ক্রিয়েটর কাব্য কর্নাটককেও। একই সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির মুখ্য নীতি নির্ধারক মেহর পসরিচাকেও আটক করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন একাধিক বাম নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, বৃন্দা কারাত, সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, জন ব্রিট্টাস, কে এন বালাগোপাল, কে কে শৈলজা এবং মনীশ সিসোদিয়ার মতো পরিচিত মুখ। এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবীকে আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার হস্তক্ষেপে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশি (Police) পদক্ষেপের আঁচ পড়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপরেও। নিউজলন্ড্রি, দ্য প্রিন্ট, স্ক্রোল, দ্য ওয়্যার এবং ইন্ডিয়া টুডে-র একাধিক সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিক্ষোভকারীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে আটক হওয়া নিউজলন্ড্রির সব সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় তাঁদের গাড়িতে ঘোরানোর পর ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
