দুর্গাপুজোর মুখে স্বস্তি উত্তর কলকাতার জনপ্রিয় পুজো কমিটি টালা প্রত্যয়ের অন্যতম কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসুর। জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে আগাম জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার নথিতে ধ্রুবজ্যোতির বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার মতো প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।
অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে একটি জমি দখল করে রেখেছে টালা প্রত্যয়। সেখানে লোহার গেট ও গ্রিল ভেঙে ফেলার পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশনের নামে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। জমি দখলের ফলে এলাকার শিশুরা খেলার মাঠ ব্যবহার করতে পারছিল না বলেও দাবি করা হয়। এ ছাড়া, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পুজোর চাঁদা সংগ্রহের নামে তোলাবাজির অভিযোগ ওঠে ধ্রুবজ্যোতির বিরুদ্ধে।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অথচ গত দশ বছরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওই ধারার শর্ত পূরণ করার মতো কোনও চার্জশিট আদালতে পেশ করা হয়নি।
তোলাবাজির অভিযোগ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। মূল এফআইআরে ওই অভিযোগের উল্লেখ ছিল না। এমনকি মামলার নথিতে ধ্রুবজ্যোতি পুজো কমিটির সদস্য বা কর্মকর্তা ছিলেন কিংবা কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন, এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
রাজ্যের তরফে একটি ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়। তাতে দেখা যায়, ধ্রুবজ্যোতি চেকের মাধ্যমে পুজো কমিটির অ্যাকাউন্টে পাঁচ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছিলেন। তবে এই লেনদেনের বাইরে তাঁর টাকা নেওয়ার কোনও প্রমাণ দেখানো হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।
অন্য দিকে, ধ্রুবজ্যোতির আইনজীবী জিষ্ণু সাহার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য এবং মামলার নথি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ধ্রুবজ্যোতিকে আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে আগাম জামিনের অর্থ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়।
