ওয়েব ডেস্ক : যুদ্ধের ময়দানে বদলে যাচ্ছে লড়াইয়ের ধরন। সরাসরি সেনা পাঠানোর পরিবর্তে রোবট ও ড্রোনকে সামনে রেখে রাশিয়ার (Russia) বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন (Ukraine)। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ‘অপারেশন ভিভালদি’ নামে এই অভিযান চার মাস ধরে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের তৃতীয় আর্মি কোর। তাদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে ১৫,৭০০-র বেশি রোবোটিক অভিযান চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলা এই অভিযানে বিস্ফোরক বহনকারী চার চাকার মানবহীন যান এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, দোনেৎস্কের পাঁচটি গ্রাম ও তিনটি বসতি রুশ নিয়ন্ত্রণ থেকে পুনর্দখল করা হয়েছে। একইসঙ্গে রুশ বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে বলেও দাবি ইউক্রেনের। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও খবর : দক্ষিণ আফ্রিকায় পরপর ভয়াবহ ঘটনা, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিহত ২৭
অভিযানের কৌশল ছিল মূলত মানবসেনার ঝুঁকি কমানো। ইউক্রেনের (Ukraine) দাবি, বড় ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক বোঝাই ছোট রোবটকে রুশ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া হত। এরপর মাটিতে নেমে রোবটগুলি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেত। ক্যামেরার মাধ্যমে দূর থেকে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখতেন অপারেটররা। সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, অস্ত্র ও রসদের মজুত এবং গুরুত্বপূর্ণ পারাপারের জায়গাকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি।
শুধু হামলা নয়, অন্যান্য কাজেও এই রোবট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। মাইন পরিষ্কার করা, গোলাবারুদ ও রসদ পৌঁছে দেওয়া এবং আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার মতো কাজেও মানবহীন যান ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি। ইউক্রেনীয় সেনার বক্তব্য, এই প্রযুক্তির ফলে মাইন, গুলির লড়াই এবং গোলাবর্ষণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানবসেনার উপস্থিতি কমানো সম্ভব হচ্ছে।
ইউক্রেনের তৃতীয় আর্মি কোরের কমান্ডার আন্দ্রি বিলেতস্কি জানিয়েছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানবহীন প্রযুক্তির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। তাঁর দাবি, ড্রোন ও স্থলভিত্তিক রোবটকে একসঙ্গে ব্যবহার করে শত্রুর অবস্থানে পৌঁছনোর নতুন কৌশল তৈরি হয়েছে। ‘অপারেশন ভিভালদি’-কে সেই পরিবর্তনেরই একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে ইউক্রেনীয় সেনা।
