নয়াদিল্লি: বন্দে মাতরম নিয়ে মতপার্থক্যের পর এ বার ইউপিআই লেনদেনের মাশুল নিয়েও কংগ্রেসের সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এল। নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে মাশুল বসানোর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সমর্থনে মুখ খুলেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। অন্য দিকে, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী।
ওমর জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মাশুল সব ধরনের ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে টাকা পাঠালে কোনও চার্জ কাটা হবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ইউপিআই ব্যবস্থা চালু রাখা ও তার রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য খরচ হয়। তাই সংস্থাগুলির উপর নির্দিষ্ট মাশুল বসানো নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যেন কোনও চার্জ নেওয়া না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট ২ হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হারে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর বসানোর কথা রয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ গ্রাহকেরা এই মাশুলের আওতায় পড়বেন না। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে গ্রাহকের কাছ থেকে মাশুল নেওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। রাহুলের অভিযোগ, এর পিছনে আমেরিকার চাপ কাজ করছে এবং এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলি লাভবান হবে। তিনি কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তবে কেন্দ্র এই বিদেশি চাপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।এই পরিস্থিতিতে ওমরের বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এর আগে বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া নিয়েও কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছিল। ফলে জোটসঙ্গী দুই দলের মধ্যে নীতিগত অবস্থানের পার্থক্য ফের আলোচনায় এসেছে।
