কলকাতা: দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বাগেশ্বর বাবা (Bageswar Baba) ওরফে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। কয়েক দিন আগে পুজোর সময় আমিষ খাওয়া ব্যক্তিদের ‘পাখণ্ডী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তা নিয়ে বাংলায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এ বার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তাঁর দাবি, বক্তব্যের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হয়েছে।
বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য, কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাঁর নেই। তাঁর আপত্তি মূলত পুজোর মণ্ডপে মাছ-মাংস খাওয়া বা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে। তিনি বলেন, নিজের বাড়িতে কেউ আমিষ খাবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
এর আগে এক অনুষ্ঠানে বাংলার দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্য ছিল, নবরাত্রি বা পুজোর সময় মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার খাওয়ার বিষয়টি তাঁর ভাল লাগে না। একই সঙ্গে তিনি পুজোয় হিন্দুদের ‘জেগে ওঠার’ আবেদন করেছিলেন এবং আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলেছিলেন।
সেই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়। এমনকি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও ওই মন্তব্যের সঙ্গে সহমত নন বলে জানিয়েছিলেন।
এ বার বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বাগেশ্বর বাবা বলেন, তিনি বলিপ্রথা পছন্দ করেন না এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পুজোর মণ্ডপে মাছ-মাংস না খাওয়ার কথা বলেছেন। তবে কারও বাড়িতে কী খাবার রান্না হবে, তা নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।
নিজেকে ‘বাঙালি’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, তিনি বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণের ভাবধারার অনুসারী। তাই তাঁর কথাকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা না করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে তাঁর আগের মন্তব্য এবং এ বারের ব্যাখ্যার মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্গাপুজোয় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস এবং ধর্মীয় আচরণ নিয়ে বিতর্ক যে এখনও থামেনি, এই ঘটনাই তার ইঙ্গিত।
