কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) মরশুমে বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন থেকে বামেদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজোর স্টলে ‘পুজো’ শব্দ বাদ দিয়ে শুধু ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে সেই স্টলের অনুমতি না দেওয়ার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে বলা হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একাংশ তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক কর্মী বেছে বেছে সনাতন ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছেন। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার কোনও ধর্মের মানুষের ধর্মাচরণে বাধা দেয় না। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে শুধুমাত্র ‘সংস্কৃতি’ বা সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা করা হবে।
এই প্রসঙ্গেই দুর্গাপুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টলের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বই বিক্রিতে সরকারের আপত্তি নেই। কিন্তু দুর্গাপুজোর প্রাঙ্গণে স্টল দিতে হলে সেটিকে যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হচ্ছে, সেই বিষয়টিও স্বীকার করতে হবে। ‘দুর্গাপুজো’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে পুজো কমিটিগুলিকে স্টলের অনুমতি না দেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
বাম আমলে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের আশপাশে মার্কসীয় সাহিত্য ও রাজনৈতিক বইয়ের স্টল দেখা যেত। সেই সংস্কৃতি এখনও কলকাতার কয়েকটি এলাকায় টিকে রয়েছে। বিশেষ করে পার্ক সার্কাসে বামেদের বইয়ের স্টল দেওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে মার্কসবাদী সাহিত্য, রাজনৈতিক পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।
পালাবদলের পর অবশ্য অধিকাংশ পুজোমণ্ডপের বাইরে এই ধরনের স্টলের সংখ্যা কমেছে। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেই সীমিত পরিসরের বইয়ের স্টল নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুজোর আবহে বামেদের বইয়ের স্টল বরাবরই জনসংযোগ ও মতাদর্শ প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। মুখ্যমন্ত্রীর নতুন বার্তা সেই পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ককেই ফের সামনে এনে দিল।
