ওয়েব ডেস্ক : ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য গোলাবারুদ কেনার চুক্তি ঘিরে বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করলেন এস্টোনিয়ার (Estonia) প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যানো পেভকুর। প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো বা ৭৬৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই চুক্তি নিয়ে দেশটির জাতীয় অডিট অফিসের একাধিক রিপোর্টে প্রশ্ন ওঠার পর রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। এস্টোনিয়ার সেন্টার ফর ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্টস ইতালিতে নথিভুক্ত ‘ডেটাসেল এসআরএল’ (Datasel SRL) নামে একটি সংস্থার সঙ্গে গোলাবারুদ সরবরাহের চুক্তি করে। ওই সংস্থাটি তার আগেই ভারতীয় মালিকানাধীন Neco Defence Munitions-এর অধিগ্রহণে চলে গিয়েছিল। অভিযোগ, চুক্তির সময় সংস্থাটির আর্টিলারি শেল সরবরাহের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
আরও খবর : নেপালের সুড়ঙ্গে ৯ দিন পর ‘অলৌকিক’ উদ্ধার, ১৭০ মিটার গভীর থেকে জীবিত ২ শ্রমিক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের European Peace Facility-এর অর্থ ব্যবহার করে ওই চুক্তিতে বিপুল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ইউরো এবং পরে আরও ১০ মিলিয়নের বেশি ইউরো দেওয়া হয়। একাধিক চুক্তির পর অগ্রিমের মোট পরিমাণ প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছয়। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে গোলাবারুদ সরবরাহ না হওয়ায় বিতর্ক আরও বাড়ে।
পরবর্তী সময়ে কিছু গোলাবারুদ এস্তোনিয়ায় পৌঁছলেও তার মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপর এস্তোনিয়া চুক্তি বাতিল করে অগ্রিম অর্থ ফেরতের দাবি জানায়। অন্যদিকে ‘ডেটাসেল এসআরএল’-এর দাবি, তারা প্রায় ৫৯ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে এবং চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়াতেও গড়িয়েছে।
এস্টোনিয়ার জাতীয় অডিট অফিস প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ ব্যবস্থাপনা ও অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক ত্রুটির কথা তুলে ধরেছে। অডিট সংস্থার আশঙ্কা, অগ্রিম দেওয়া অর্থ উদ্ধার করা না গেলে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরোর বোঝা শেষ পর্যন্ত এস্টোনিয়ার সরকারি কোষাগারের উপর পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা করেন পেভকুর।
পদত্যাগের পরও পেভকুর দাবি করেছেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করা এস্টোনিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল জানিয়েছেন, চুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত দায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
