ওয়েব ডেস্ক : তেলঙ্গানার (Telangana) নালগোন্ডা জেলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কে রূপা রেড্ডিকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় একই স্কুলের দুই দশম শ্রেণির পড়ুয়াকে আটক করা হয়েছে। ১১ অগস্ট নিজের বাড়িতে খুন হন ৫০ বছরের ওই প্রধান শিক্ষিকা। তাঁর শরীরে ২৭টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পুলিশের (Police) প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই দুই নাবালক কয়েক দিন ধরে প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। তাঁদের ধারণা ছিল, স্কুলের ফি বাবদ জমা হওয়া টাকা তাঁর বাড়িতে থাকতে পারে। অভিযোগ, ঘটনার দিন বাড়িতে ঢুকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল এক অভিযুক্ত। সেই সময় রূপা রেড্ডি তাকে চিনে ফেলেন। অভিযোগ, পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে ছুরি দিয়ে বার বার আঘাত করা হয়।
তদন্তে পুলিশের হাতে আসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। প্রধান শিক্ষিকার শেষ ফোনালাপের সময় তাঁর মুখে ‘বাবু’ শব্দটি শোনা গিয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। ওই স্কুলে পড়ুয়াদের সম্বোধন করার সময় রূপা রেড্ডি এই শব্দটি ব্যবহার করতেন। এরপর স্কুলের অনুপস্থিত পড়ুয়াদের তালিকা তৈরি করে তদন্ত শুরু হয়। প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা দুই পড়ুয়ার দিকে নজর দেন।
আরও খবর : কখনও সিংহ, কখনও গান্ধী! ১০ টাকার নোটের চেহারা কেন বারবার বদলেছে?
এরপর এক অভিযুক্তের কাছ থেকে ১.৫৪ লক্ষ টাকা ও একটি আইফোন উদ্ধার হয়। ওই টাকা পরিবারের দেওয়া বলে দাবি করলেও নোটগুলিতে রক্তের দাগ দেখতে পান তদন্তকারীরা। ফরেন্সিক পরীক্ষায় সেই রক্ত প্রধান শিক্ষিকার বলে নিশ্চিত হওয়ার পর সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রূপা রেড্ডির মোবাইল ফোনও অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার আগে এক অভিযুক্ত স্কুলের হস্টেলে থাকত। তার ব্যাগে টাকা ও মোবাইল ফোন পাওয়ার পর রূপা রেড্ডি তাকে সতর্ক করেছিলেন এবং পরে হস্টেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনা থেকেই তাঁর প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। ঘটনার কয়েক দিন আগে বাড়ির আশপাশে নজরদারি চালানোর অভিযোগও উঠেছে দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে।
