ওয়েব ডেস্ক : মহারাষ্ট্রের (Maharastra) অমরাবতী জেলার একটি সরকারি আদিবাসী আবাসিক স্কুলে কয়েকজন ছাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল। গত ২২ জুলাই ঘটনার সূত্রপাত। আচমকাই চার ছাত্রী অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে । কেউ হেসে উঠছিল, কেউ আবার কাঁদছিল। কেউ ছটফট করছিল, আবার কেউ ভয়ে গুটিয়ে যাচ্ছিল। তার জেরে সহপাঠীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল আতঙ্ক।
ঘটনার মধ্যেই কয়েকজন ছাত্রী রাতে নূপুরের মতো শব্দ শোনার দাবি করে। এরপরই স্কুলে ‘ভূতের উপদ্রব’ (Ghost)-এর গুজব ছড়িয়ে পড়ে ওই স্কুলে। স্থানীয়দের মধ্যেও নানা ধরনের কথা ছড়াতে থাকে। আতঙ্ক এতটাই বাড়ে যে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ ছাত্রছাত্রী হস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়। পড়ুয়াদের এমন আচরণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরাও।
আরও খবর : সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারি, ৫ মাসে ব্লক প্রায় ১.৯৫ লক্ষ কনটেন্ট! ৬৮ সেকেন্ডে একটি নির্দেশ
স্থানীয় স্তরে ঘটনাকে ঘিরে একাধিক কাহিনি ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল চত্বরে থাকা একটি মহুয়া গাছ কেটে ফেলার সঙ্গে ‘আত্মার রোষ’-এর যোগ রয়েছে বলে কেউ কেউ দাবি করেন। আবার স্কুলের পিছনের মন্দিরের জায়গার উপর দিয়ে নিকাশি নালা যাওয়ায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও গুজব ছড়ায়। স্কুলের কাছের মাঠে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকেও কেউ কেউ এর সঙ্গে জুড়ে দেন। তবে এই দাবিগুলির কোনওটিরই প্রমাণ মেলেনি।
ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে অমরাবতী জেলা হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলে যায়। পরীক্ষার পর তাঁরা জানান, অতিপ্রাকৃত কোনও ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভয়, মানসিক চাপ এবং পরিবেশের প্রভাবে হিস্টিরিয়া-জাতীয় উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং শুরু করেছে প্রশাসন। আক্রান্ত ছাত্রীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা এবং তাঁদের অভিভাবকদেরও কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। গুজবে কান না দিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিক এবং স্থানীয় সাংসদ। কয়েকজন পড়ুয়াকে ফেরানোর চেষ্টাও চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
