মালদহ: মালদহ জেলা (Maldah) পরিষদে তৃণমূলের (TMC) গোষ্ঠীকোন্দল এ বার প্রকাশ্যে। সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বুধবার সেই প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির জন্য তলবি সভা বসে। সেখানে তৃণমূলের ১৯ জন বিক্ষুব্ধ সদস্যের পাশে দেখা গেল কংগ্রেসের পাঁচ জেলা পরিষদ সদস্যকে। ফলে মালদহ জেলা পরিষদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।
মালদহ জেলা পরিষদে মোট সদস্য ৪৩ জন। তাঁদের মধ্যে তৃণমূলের ৩৪, কংগ্রেসের পাঁচ এবং বিজেপির চার জন। বুধবারের তলবি সভায় তৃণমূলের ১৯ জন বিক্ষুব্ধ সদস্য এবং কংগ্রেসের পাঁচ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ মোট ২৪ জন সদস্য অনাস্থার পক্ষে সভায় হাজির হন। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূরও দলের জেলা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আরও খবর : রাজ্যে ফের কোভিডে মৃত্যু! প্রাণ গেল দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারের
তবে অনাস্থার ভোটাভুটির আগেই পরিস্থিতিতে বড় মোড় আসে। সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতি রফিকুল ইসলাম দু’দিন আগেই পদত্যাগের কথা জানিয়ে মালদহের বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন। ফলে আদালতের নির্দেশে অনাস্থার তলবি সভা হলেও তার আগেই দুই শীর্ষ পদাধিকারীর ইস্তফা নতুন জটিলতা তৈরি করে।
তলবি সভার পরে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যদের দাবি, অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়েছে। প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ সদস্যদের বক্তব্য, লিপিকা আর সভাধিপতির পদে থাকছেন না। আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে বৈঠক ডেকে সভাধিপতি নির্বাচন করা হবে বলেও দাবি তাঁদের।
মালদহ জেলা পরিষদের ক্ষমতার অঙ্কে কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের অবস্থান তাই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের ১৯ বিক্ষুব্ধ সদস্যের সঙ্গে তাঁদের উপস্থিতি ঘিরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। নতুন সভাধিপতির দৌড়ে কে এগিয়ে থাকেন, নাকি প্রশাসকের হাতে দায়িত্ব যায়, এখন নজর সেদিকেই।
