কলকাতা: একুশে জুলাই (21 July) শহিদ দিবসের প্রাক্কালে কালীঘাট তৃণমূলের (Kalighat TMC) কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হল। অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) অনুমতি ও নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সোমবার গভীর রাতে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে নির্মিত একুশের মঞ্চে ভাঙচুর চালানো হয়। ব্যানার, হোর্ডিং ও মঞ্চের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই সভাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, দোলা সেন-সহ দলের একাধিক নেতা। ঘটনাস্থল থেকেই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাতভর মঞ্চের সামনে অবস্থান করেন তাঁরা। পরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে ফের অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত করা হয়।
এদিকে অভিযোগ ওঠে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মঞ্চ রক্ষা বা অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। এমনকি মাইক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী অর্ক নাগ এবং জরুরি শুনানির আবেদন জানান।
শুনানির প্রাথমিক পর্যায়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের কাছে জানতে চান, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন সহযোগিতা করেনি। জবাবে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কাছে তখনও কোনও তথ্য নেই।
বিচারপতি মামলাটি গ্রহণ করে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিস্তারিত শুনানির নির্দেশ দেন। আদালতে পুলিশের ভূমিকা, প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ, এই তিনটি বিষয়ই শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আইনজীবী মহলের একাংশের ধারণা।
