ওয়েব ডেস্ক : ফুটবল মাঠের লড়াই শেষ হয়েছে, কিন্তু সেই উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার (Argentina) জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে (Falkland Islands) কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনার অভিযোগ, ব্রিটিশ নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস মেডওয়ে কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই তাদের জলসীমার দিকে এগিয়ে এসেছে। এই ঘটনাকে ‘সামরিক উসকানি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির বিদেশমন্ত্রী পাবলো কুইরনো।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ইংল্যান্ড (England) ও আর্জেন্টিনার (Argentina) বিরোধ কয়েক দশকের পুরনো। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের স্মৃতি এখনও দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। সেই ইতিহাসই যেন ফের সামনে চলে আসে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামেন। ফকল্যান্ডকে আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে ডাকা হয়। এই ব্যানারের মাধ্যমে দ্বীপপুঞ্জের উপর নিজেদের দাবি ফের তুলে ধরায় কড়া আপত্তি জানায় ব্রিটেন।
আরও খবর : নিউজিল্যান্ডে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা
এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আর্জেন্টিনার দাবি, সেমিফাইনালের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফকল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস মেডওয়ে তাদের জলসীমার কাছে পৌঁছে যায়। বুয়েনোস আইরেসের অভিযোগ, এই যাত্রার বিষয়ে কোনও আগাম তথ্য দেওয়া হয়নি। ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ব্রিটিশ দূতাবাসের কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্রও পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনার বিদেশ মন্ত্রক।
তবে ব্রিটেন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের দফতরের দাবি, যুদ্ধজাহাজটির যাত্রাপথ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। চিলি হয়ে আন্টার্কটিকার উদ্দেশে যাওয়ার অংশ হিসেবেই ওই রুট ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
