ওয়েব ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (Opposition Leader) নির্বাচনকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় শুনানি শেষ হলেও আপাতত রায় ঘোষণা করল না কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর রায় সংরক্ষণ করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই মামলা করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovondeb Chattopadhyay)।
শুনানির সময় আদালত স্পিকারের কাছে আবেদনপত্র পৌঁছনোর সময় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে। স্পিকারের পক্ষে সওয়াল করে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল ও আইনজীবী বিল্লদ্বল ভট্টাচার্য জানান, ৯ মে প্রথম চিঠি জমা পড়লেও তখন স্পিকার নির্বাচিত হননি। ১৫ মে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯ মে আর একটি চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছয়। পরে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্রের ভিত্তিতেই ৩ জুন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, দলের চেয়ারম্যান বিধানসভার সদস্য না হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের মতামতই স্পিকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল।
আরও খবর : বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, বিষয়টি শুধুমাত্র বিধানসভার অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, এটি বিধানসভার ডিবেট সংক্রান্ত বিষয় নয়। তাই এই সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপ করার জায়গা আছে।এক পক্ষ ক্ষমতাবান আরেক পক্ষ ক্ষমতাহীন, কিন্তু তারা একই দলের। এই অবস্থায় স্পিকার আর কি করতে পারে?
আবেদনকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) আদালতে দাবি করেন, ১৯ মে জমা পড়া দ্বিতীয় চিঠিকে কার্যত উপেক্ষা করে স্পিকার কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের চেম্বারে বসেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বিধানসভার প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আইনসভার কক্ষেই নেওয়া উচিত ছিল। এদিন সওয়ালের সময় তিনি লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নিরপেক্ষ ভূমিকারও প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে একক বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ এবং স্পিকারের সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন জানান। এখন ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মামলা। মামলার শুনানি চলছে বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের রায়কেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়।
দেখুন অন্য খবর :
