ওয়েব ডেস্ক: ধসে স্তব্ধ উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার! বন্ধ NH-10, সিকিম-কালিম্পং (Sikkim-Kalimpong) যোগাযোগে বড় ধাক্কা। বর্ষার শুরুতেই ফের প্রকৃতির রুদ্ররূপের সাক্ষী হল পাহাড়। বৃহস্পতিবার ভোরে সেবক কালীমন্দির সংলগ্ন বাঘপুল এলাকায় হঠাৎই পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে (Landslide) পড়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। মুহূর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় সিকিম ও কালিম্পংগামী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক, যার ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
বর্ষার শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও ভুটানজুড়ে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃষ্টি ও ছোট-বড় একাধিক ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ি অঞ্চল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে শিলিগুড়ির কাছে সেবক কালীমন্দিরসংলগ্ন বাঘপুল এলাকায় পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে পড়ে। এতে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-10)। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিলিগুড়ি, সিকিম, কালিম্পং এবং ডুয়ার্সের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রাস্তার দুই প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে অসংখ্য পর্যটকবাহী গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী যান। দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে ভোগান্তির মুখে পড়েন বহু যাত্রী।ধসের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কর্মীরা। উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নামানো হয় জেসিবি-সহ একাধিক ভারী যন্ত্র। ধসের স্তূপ সরিয়ে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আংশিকভাবে যান চলাচল শুরু করার চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে যাত্রীদের সুবিধার জন্য গজলডোবা-এনজেপি এবং রোহিণী-দার্জিলিং হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে পাহাড়ি সড়কে বারবার ধসের ঘটনায় NH-10-এর নিরাপত্তা ও স্থায়ী সমাধান নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
