কার্শিয়াং: পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিট গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “ভয়ের সংস্কৃতি শেষ, এবার পাহাড় দেখবে ভরসার সরকার।”
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে এটি তাঁর তৃতীয় উত্তরবঙ্গ সফর। এদিন সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে কার্শিয়াং যান তিনি। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিমল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্ত, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিমল গুরুং, রোশন গিরি, মন ঘিসিং ও সঞ্জীব লামা।
সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পাহাড় বাংলার গর্ব এবং দেশের সম্মানের প্রতীক। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি এখানে ঘুরতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষ আমাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের উন্নয়নই আমার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন: ‘রাজনীতিতে থাকুন, আমাকে শেয়ারিংয়ে নিন,’ মমতাকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে বড় মন্তব্য হুমায়ুনের
পাহাড়ের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় ২৮ লক্ষ মহিলাকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালের সংস্কার এবং সরকারি স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। যুব সম্প্রদায়ের জন্য ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ইনডোর স্টেডিয়াম এবং আধুনিক স্পোর্টস গ্রাউন্ড নির্মাণের ঘোষণাও করা হয়েছে।
চা শিল্প এবং চা শ্রমিকদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ২৫টি চা বাগানকে কেন্দ্র করে ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ঘোষিত ‘পিএম চা শ্রমিক যোজনা’ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার দ্রুত সেই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন জিটিএ-তে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” একইসঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের পুনর্বাসনের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দেখুন আরও খবর:
