ওয়েব ডেস্ক: একসময় অবিভক্ত শিবসেনার (Shiv Sena) ভাঙনের পর তৈরি হওয়া শিবসেনা (উদ্ধব) শিবিরে আবারও বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ শাসক জোট এনডিএ-র (NDA) সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, শিবসেনা (উদ্ধব) ছেড়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ জন বিধায়ক এবং ৭ জন সাংসদ শীঘ্রই শিবির বদল করতে পারেন। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বাদল অধিবেশনের আগেই দলত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে।
এই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন কৃপাল তুমানে। একনাথ শিন্ডে-ঘনিষ্ঠ এই নেতা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে এবং তা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তুমানে বলেন, “অপারেশন টাইগার এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। হাসপাতালে কোনও অপারেশনের আগে যেমন দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে, এখানেও তেমনটাই হয়েছে। সমস্ত রিপোর্ট এসে গিয়েছে। এখন শুধু অপারেশনের দিন ঘোষণা হওয়া বাকি।” তাঁর দাবি, শীঘ্রই কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ক উদ্ধব শিবির ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কেন এই অসন্তোষ, সেই প্রশ্নের উত্তরে তুমানে বলেন, “ওদের দলে কী সমস্যা চলছে, সেটা ওরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে শিণ্ডে সাহেব যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তাতে অনেক জনপ্রতিনিধিই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। উন্নয়নের স্বার্থে অনেকেই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন।”
আরও পড়ুন: ‘সংসদে বাংলার সবচেয়ে বড় দল আমরাই’! এনসিপিআই নামে তৈরি ফেসবুক পেজ
তবে এই সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে শিবসেনা (উদ্ধব) নেতৃত্ব। দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাউত স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, দল ভাঙার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তুমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাউত বলেন, “উনি কে? মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন। শিণ্ডে গোষ্ঠীর কিছু লোক প্রতিদিনই নতুন নতুন দাবি করে। বাস্তবে এর কোনও ভিত্তি নেই।” একইসঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে রাউত অভিযোগ করেন, “গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপি রাজনৈতিক দল ভাঙার রাজনীতি করছে। আগে শিবসেনা, পরে এনসিপি, এখন অন্য দলগুলোকেও একইভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে উদ্ধব ঠাকরের (Uddhav Thackeray) নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ভেঙে বেরিয়ে যান একনাথ শিণ্ডে এবং তাঁর অনুগামী বিধায়কদের একটি বড় অংশ। সেই ঘটনার জেরে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তন আসে। এরপর থেকেই উদ্ধব শিবিরে বারবার ভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৬ জন বিধায়ক ও ৭ জন সাংসদের দলত্যাগের জল্পনা কতটা সত্যি, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
দেখুন আরও খবর:
