কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে কংগ্রেস। ২১ জুলাইকে (21 July) ঘিরে এবার রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। যে দিনটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পরিচিত, সেই দিনেই বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রের খবর, কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানে ২১ জুলাইয়ের সভা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দলের লক্ষ্য, জাতীয় নেতৃত্বের কোনও শীর্ষ মুখকে ওই সভায় উপস্থিত করানো। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে কিংবা জয়রাম রমেশের মতো নেতাদের মধ্যে কেউ একজন সভায় থাকতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রদেশ নেতৃত্ব।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, দিল্লির নেতৃত্বের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, শহিদ মিনারের সভা বড় পরিসরেই হবে এবং জাতীয় স্তরের কোনও গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত থাকতে পারেন। দলীয় সূত্রে আবার দাবি, রাহুল গান্ধীর আসার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে এবার বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, অতীতে এই দিনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় তৃণমূলের বিশাল জনসভা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় বার্ষিক কর্মসূচি হয়ে উঠেছিল। ক্ষমতায় আসার আগে এবং পরেও এই মঞ্চ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের ডাকে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযান কর্মসূচি হয়েছিল। সেই সময় যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতিবছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করা হয়।
পরবর্তীকালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করেন।
প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে কংগ্রেসে নেই। তাই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রশ্নই ওঠে না। সুমন রায়চৌধুরীর কথায়, “তিনি এখন অন্য দলের নেত্রী। কংগ্রেসের কর্মসূচিতে তাঁকে ডাকার কোনও পরিকল্পনা নেই।”
