কলকাতা: রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে (CID) প্রায় আড়াই ঘণ্টা বাড়ির সামনে অপেক্ষা করিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার সন্ধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনওভাবেই তদন্ত এড়িয়ে যাচ্ছেন না এবং সবসময় তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করে এসেছেন।
অভিষেক জানান, আগের দিন দিল্লি থেকে ফিরে তিনি নিজেই সিআইডির দফতরে গিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর কথায়, “বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরেই ভবানীভবনে গিয়েছিলাম। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমি সহযোগিতা করেছি। আমাকে সশরীরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল, আমি সময়মতো গিয়েছি। ১৪ জুন আবার যাব। আমি পালিয়ে যাইনি, তদন্তে সবসময় সহযোগিতা করেছি।”
আরও পড়ুন: ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্যে মমতার বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর
শুক্রবার বিকেলে নির্বাচনী প্রচারের সময় করা তাঁর ‘ডিজে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলার নোটিস দিতে কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। কিন্তু সেই সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তদন্তকারীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ির সামনে ধীরে ধীরে জড়ো হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরাও।
সূত্রের খবর, ওই সময় কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। পরে সন্ধ্যা সাতটার কিছু পরে বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। কেন সিআইডিকে এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হল, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আজ দলনেত্রীর বাড়িতে বৈঠক ছিল। সাংসদরাও ছিলেন। সিআইডি নোটিস দিতে এসেছিল। আমি আমার আপ্তসহায়ক পার্থকে বলেছিলাম নোটিস গ্রহণ করতে। আমি অনুরোধ করেছিলাম, যদি তাঁর হাতে নোটিস না দেওয়া যায়, তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। যখন ইচ্ছা চলে আসবেন, তা তো হতে পারে না। আগে যোগাযোগ করলে আমি থাকতাম।”
একই সঙ্গে সিআইডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁর জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন তাঁকে কী প্রশ্ন করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে পৌঁছে গিয়েছে। “আমি যখন কিছু বলিনি, তখন তথ্য কোথা থেকে বেরোল? নিশ্চয়ই তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকেই। এ বিষয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হব,” বলেন তিনি।
দেখুন আরও খবর:
