নয়াদিল্লি: কংগ্রেসে (Congress) সরাসরি যোগদান নয়, বরং আগামী দিনে কংগ্রেসের সঙ্গে সর্বস্তরে রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোটের পথেই এগোতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দিল্লিতে (Delhi) পরপর দু’দিন তৃণমূল (TMC) ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর এমনই জল্পনা জোরদার হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবার দিল্লির ১০, জনপথে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরদিন একই স্থানে রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই দুই বৈঠককে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হলেও, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন: মমতা কংগ্রেসে গেলে দূরত্ব বাড়াবে বাম? কী হবে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ?
তৃণমূল সূত্রে দাবি, দলগত সংযুক্তির কোনও প্রশ্ন নেই। তবে জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে বৃহত্তর সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং বিধানসভা নির্বাচনের মতো রাজনৈতিক লড়াইয়েও দুই দল একসঙ্গে পথ চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোটকে এক ছাতার তলায় আনা জরুরি। সেই কারণেই কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক কার্যত শিথিল হয়ে পড়েছে। ফলে কংগ্রেস-তৃণমূল সমঝোতার ক্ষেত্রে আগের রাজনৈতিক বাধাগুলিও অনেকটাই কমে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন এবং বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। দেশের সব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ওই বৈঠকে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। মাত্র এক দিনের নোটিসে বৈঠক ডাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তবে তৃণমূল ও কংগ্রেস, দুই শিবিরই আপাতত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এখনই কোনও দলগত সংযুক্তির প্রশ্ন নেই। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দুই দলের সম্ভাব্য জোট-সমীকরণের দিকেই।
