38.5 C
Kolkata

ত্রাণ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী! কী বললেন মহুয়া মৈত্র?

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে প্রাক্তন কারামন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ উজ্জ্বল বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে (Ujjwal Biswas Arrested) কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। বুধবার প্রকাশ্যে এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করে একাধিক প্রশ্ন তুললেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল (TMC) সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর দাবি, ত্রাণচুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং পরিকল্পিতভাবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে হেনস্তা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণনগরে উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ত্রাণসামগ্রী তাঁর বাড়িতে মজুত করে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, বাড়ির সামনে একটি গাড়িতে সরকারি ত্রিপল তোলা হচ্ছিল। সেই দৃশ্য নজরে আসতেই এলাকায় সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, উজ্জ্বল বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তাও করা হয়। প্রবল বিক্ষোভের মধ্যেই পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেই সময় ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: সুখেন্দু শেখর রায়ের পর সুস্মিতা দেব! রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ তৃণমূলের আরও এক সাংসদের

তবে ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, জনরোষের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই প্রথমে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজেই থানায় যোগাযোগ করেন। তখন পুলিশ সূত্রে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে তাঁর গ্রেফতারের খবর সামনে আসে। ত্রাণচুরির অভিযোগ খারিজ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারের তরফে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা যায়। সেই কারণে ত্রাণসামগ্রী বাড়ি বা নির্দিষ্ট গোডাউনে মজুত রাখা স্বাভাবিক বিষয়। বর্ষার আগে ত্রিপল-সহ বিভিন্ন সামগ্রী জনপ্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বিলি করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাংসদের দাবি, গত ৪ জুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন বিধায়কদের কাছে থাকা ত্রাণসামগ্রী ফেরত নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় ৮ জুন উজ্জ্বল বিশ্বাস নিজেই এসডিও এবং বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি মহুয়ার। এরপর সরকারের তরফে মঙ্গলবার তাঁর বাড়ি থেকে ওই সামগ্রী সংগ্রহ করার জন্য একটি গাড়ি পাঠানো হয়।

মহুয়ার অভিযোগ, গোটা ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, সমস্ত তথ্য জানা সত্ত্বেও বিজেপি কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করেছেন এবং জনরোষের পরিবেশ তৈরি করেছেন। তাঁর কথায়, এটি ত্রাণচুরির ঘটনা নয়, বরং একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হেনস্তা করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

‘আমরাই তৃণমূল, কংগ্রেসে মিশছি না’, জল্পনার মাঝে বিরাট দাবি ঋতব্রতর

ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে ভাঙনের জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এই আবহে বুধবার বিধানসভার বাইরে বিস্ফোরক দাবি করলেন...

More Articles Like This