কলকাতা: মেসি কাণ্ডে (Messi Case) সাময়িক স্বস্তি রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas)। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) থেকে রক্ষাকবচ পেলেন অরূপ বিশ্বাস। এখনই গ্রেফতারির মতো কড়া পদক্ষেপ নয়, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বজায় থাকবে। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। কলকাতা ছেড়ে যেতে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস। নির্দেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের।
বিধাননগর থানায় শতদ্রু দত্তের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। গ্রেফতারি এড়াতে সেই এফআইআর কে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অরূপ বিশ্বাস।মেসি কাণ্ডে এখনই গ্রেফতারির মতো কড়া পদক্ষেপ নয়, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। তবে তদন্ত চলবে নিজের গতিতে। নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া রাজ্যও ছাড়তে পারবেন না। মামলার পরবর্তী শুনানি ৪ আগস্ট। গোটা ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রীকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মেসিকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু ? মন্তব্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর। মেসির অত কাছাকাছি অরূপ বিশ্বাস গেলেন কেন? গোটা দেশের আরও অনেক জায়গায় মেসি গিয়েছেন, কোথাও তো এসব হয়নি।”
আরও পড়ুন: অর্থমন্ত্রী স্বপন, স্বাস্থ্যে শারদ্বত, শিক্ষা কার হাতে? দেখে নিন একনজরে
অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, মেসির কলকাতা প্রোগ্রাম নিয়ে গণ্ডগোল “মেসি mesup “… অভিযোগ দায়ের করেন প্রোগ্রামের অর্গানাইজার ।তার দাবি আর্থিক তছরুপ সহ টিকিট ও ভিআইপি কার্ড ইস্যু (বিলি)র অভিযোগ আছে অরূপ বিশ্বাসের প্রতি।বেশিরভাগ জমিন অযোগ্য ধারা দেওয়া হয়ছে। আমি অন্তরবর্তীকালীন রক্ষাকবচ চাইছি। পাশাপাশি এই অভিযোগটি খারিজ করুক আদালত।বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, মেসিকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এই ঘটনা। মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন! মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু? অরূপ বিশ্বাস এসব কিভাবে করতে পারলেন? মেসির অত কাছাকাছি অরূপ বিশ্বাস গেলেন কেন? এতে মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি?
গোটা দেশের আরও অনেক জায়গায় মেসি গেছেন, কোথাও তো এসব হয়নি। প্রচুর মেসি ভক্ত সেদিন মাঠে ছিলেন, নিরাপত্তার কারণে মেসি আগে চলে যেতে বাধ্য হন। মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়। চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখা যায়। আমি গোটা ঘটনা নিয়ে পুলিশকে আলাদা করে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করতে বলব বলে ভাবছি। পুলিশ দেখা করতে বলছে, যাচ্ছেন না কেন? কবে যাবেন ? কিশোর দত্ত বলেন, আপনি রক্ষা কবচ দিলে কালকেই যাব। অ্যডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, ইতিমধ্যে আবেদনকারী বারাসাত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন।আমি এই রক্ষা কবচ এর বিরোধিতা করবো।আদালত জানেন সেদিন কি ঘটনা ঘটেছে।তার ছবি ও ভিডিয়ো যদিও জমা দেওয়া আছে আমাদের তরফ থেকে। ৪ জুন অরূপ বিশ্বাস একটি চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশকে বলেছেন ডি হাইড্রেশন,স্টমাক পেইন, সুগার হাই ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এরালেন। শরীর খারাপের কোনও আইনি কাগজ জমা দেয়নি অরূপ বিশ্বাস। তাকে দুটো নোটিস পাঠানো হয়েছিল দুটোতেই হাজিরা এরিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।এখন তাহলে আদালত রক্ষাকবচ দিলে তিনি আবারও এড়াবেন হাজিরা। তদন্তে দেরি হবে। আইনি বৈধতা আছে তদন্তে অসহযোগিতা করলে গ্রেফতারির নিয়ম আছে।
আরও পড়ুন:সুখেন্দু শেখর রায়ের পর সুস্মিতা দেব! রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ তৃণমূলের আরও এক সাংসদের
শতদ্রু দত্তর আইনজীবী অরিন্দম জানা, অর্গানাইজার শতদ্রু দত্তর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে।অরূপ বিশ্বাস প্রভাবশালি। তাকে রক্ষাকবচ দিলে তদন্তের ব্যাঘাত ঘটতে পারে সাক্ষীদের ওপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আমরা মোট চারটে জায়গায় এই অনুষ্ঠান করেছিলাম শুধুমাত্র কলকাতাতেই এই ঘটনা ঘটে অন্যান্য তিনটি রাজ্যে কোনো রকম বিশৃঙ্খল প্রতি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এখানে বিশৃঙ্খলার মূল কান্ডারী রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাই আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি তার প্রভাব খাটিয়া আমাদের কাছ থেকে প্রচুর টিকিট ও কার্ড সমস্ত নিয়েছেন। যেগুলিকে বাইরে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ১৩ ডিসেম্বর ‘ ২৫ এর ঘটনা, আর অভিযোগ করা হয়েছে ৩০ মে’ ২৬। ৬ মাস পরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, এতদিন পর অরূপ বিশ্বাস সাক্ষীদের ভয় দেখাবেন ?আদালতের পর্যবেক্ষণ, যেহেতু যেসব ধারায় মামলা হয়েছে সেগুলির সাজার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৭ বছর। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত প্রাথমিক ভাবে মনে করছে যে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনও প্রয়োজন নেই।আদালতের নির্দেশ, মেসিকাণ্ডে পুলিশের দ্বারা নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতেই হবে অরূপ বিশ্বাসকে। ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিয়ে ডাকতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। তদন্ত চলবে তদন্তের মত। তদন্তে কোনো স্থগিতাদেশ নয়। তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্য ছাড়তে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস।
নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। কোন সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস। গ্রেফতারির মত কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।এই ঘটনা কেন ঘটল সেটার আলাদা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে পুলিশ। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে হবে তদন্ত। চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে।অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা আছে কিনা সেটা আদালতের জানাবে পুলিশ। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বজায় থাকবে। ৪ আগস্ট পরবর্তী শুনানি। তদন্তের হাজিরা সময় ডিম-পাথর থেকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক আবেদনকারীকে এমনটাই দাবি অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী কিশোর দত্তের। তবে এ বিষয়ে আদালত কোন কর্ণপাত করেননি।
