কাটোয়া: পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) কাটোয়া-১ (Katwa) ব্লকের খাজুরডিহি গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে (MGNREGA) লক্ষাধিক টাকার দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে কয়েকজন সুপারভাইজার অনিয়মের কথা লিখিতভাবে স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে নিয়মিত অনিয়ম চলেছে। বহু ক্ষেত্রে কাজ না করেই শ্রমিকদের নামে উপস্থিতি দেখিয়ে সরকারি অর্থ তোলা হয়েছে। একই ব্যক্তির নামে একাধিকবার এন্ট্রি করা, পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে ভুয়ো হাজিরা দেখানো এবং সেই অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: গ্রেফতার নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা আব্দুল আলিম আলরাজি
স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা নয়, বরং কয়েক লক্ষ টাকার সরকারি অর্থ নয়ছয় হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পঞ্চায়েতে নিযুক্ত কয়েকজন সুপারভাইজার।
সোমবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা চারজন সুপারভাইজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। দীর্ঘ সময় ধরে পঞ্চায়েত চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, চাপের মুখে অভিযুক্তরা লিখিতভাবে জানান যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁরা ওই অর্থ ফেরত দেবেন।
শুধু ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নয়, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এক সুপারভাইজার আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের অনিয়ম চললেও তা রোধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শুধু কয়েকজন সুপারভাইজার নন, এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, এই দুর্নীতির সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব, অঞ্চল সভাপতি এবং পঞ্চায়েতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন তদন্ত শুরু করে কি না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।
